Bartaman Logo
১২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টুলু ছিল যেন গৌরী সেন! অবৈধ কারবারের টাকায় ফুলেফেঁপে কাঁটাটিকুরির আত্মীয়রাও

পাথর সম্রাট টুলু মণ্ডল তাঁদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। ব্যাস! এই পরিচয়টুকুই যথেষ্ট ছিল আউশগ্রামের কাঁটাটিকুরি গ্রামের টুলুর আত্মীয়দের

টুলু ছিল যেন গৌরী সেন! অবৈধ কারবারের টাকায় ফুলেফেঁপে কাঁটাটিকুরির আত্মীয়রাও
  • ১২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

 অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া:  পাথর সম্রাট টুলু মণ্ডল তাঁদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। ব্যাস! এই পরিচয়টুকুই যথেষ্ট ছিল আউশগ্রামের কাঁটাটিকুরি গ্রামের টুলুর আত্মীয়দের। মাটিতে যেন পা পড়ত না কারও। বুক ফুলিয়ে দাপট চলত গ্রামজুড়ে। প্রতিবাদ করার সাহস দেখাতেন না কেউই। কারণ, টুলু অর্থবল ও  বাহুবলে মসীহা হয়ে উঠেছিলেন আত্মীয়দের কাছে। ‘লাগে টাকা, দেবে গৌরী সেন’—এই প্রবাদের যথার্থতা প্রমাণ করে দিয়েছিলেন টুলু। 

Advertisement

ফল যা হওয়ার তাই। টুলুর টাকায় পাঁচ বছরে ফুলেফেঁপে উঠেছিল ভেদিয়ার কাঁটাটিকুরি গ্রামের তাঁর আত্মীয়দের। প্রায় তিনশ পরিবারের বাস ওই গ্রামে। মামাশ্বশুর থেকে বহু আত্মীয় রয়েছেন তাঁদের মধ্যে। আগে টুলু সবার আপদে-বিপদে নিয়মিত আসতেন। গত কয়েকবছর ধরে আসছিলেন না। মামাশ্বশুর মোজাম্মেল মণ্ডলের ছেলে  মুর্শিদ কামাল ওরফে রিপন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করতেই গ্রামের সর্বত্র এখন চর্চায় টুলু। রিপন টুলুর পাথর খাদানে ডিসিআর কাটার কাজ করত। অভিযোগ, জাল ডিসিআরের কারবার করেই বিলাস বৈভবের শিখরে উঠেছিলেন টুলু। কিভাবে চলত সেই কারবার? রিপনকে গ্রেপ্তার করে জাল গোটাতে চাইছে পুলিশ। 
মঙ্গলবার গ্রাম ঘুরে জানা গিয়েছে, মোজাম্মেলের খুড়তুতো ভাই কাজল মণ্ডল সহ এক্রামূল হক মণ্ডল টুলুর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। পাঁচ বছর আগেও মোজাম্মেলের কয়েক বিঘা জমি ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তার তিন ছেলে রিপন-বাপি-রনি। রিপন ও বাপি টুলুর ম্যানেজার ছিল। আর রনি পুলিশে চাকরি করেন। গ্রামবাসীরা বলছিলেন, ‘গ্রামে ঢোকার মুখে নিশ্চয় আপনার চোখে পড়েছে একটা পেল্লাই বাড়ি। সেটা মোজাম্মেলের। প্রতিটি ঘরে দামী আসবাব, এসি। গ্রামে ওঁর দাপটও বেশ ভালোই। ভয়ে কেউ কথা বলার সাহস পেত না।’ আগ বাড়িয়ে এক বাসিন্দা বললেন, ‘তৃণমূলের জমানায় মোজাম্মেল কোনো পদে ছিলেন না। কিন্তু, এমন হাবভাব দেখাতেন, তা বিধায়কের সমান!’  
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, রিপনের বিয়ে হয়েছে ইলামবাজারে। ২০২৩ সালে সেই বিয়েতে ছিলেন টুলু। সেটা স্বীকারও করছেন মোজাম্মেল সাহেব। বলেছেন, ‘আমাদের আত্মীয় হিসাবেই ছেলের বিয়েতে মণ্ডল সাহেব হাজির ছিলেন।’ গ্রামবাসীদের অভিযোগ, টুলুর ম্যানেজার হওয়ার দৌলতে রাতারাতি রিপনের জীবনযাত্রার মানও বদলে যায়। গ্রামে আসত দামী চারচাকা নিয়ে। মাঝেমধ্যে টুলুর শ্যালকের বিএমডব্লু গাড়িটিও নিয়ে আসত রিপন। ঈদ এলেই গ্রামে আসত ‘মণ্ডল সাহেবের উপহার’। লরিভর্তি চাল, জামা, কাপড় প্রভৃতি। সেগুলি বিলি হতো মোজাম্মেলের হাত দিয়ে। 
সোমবার টুলুর আত্মীয় কাজল মণ্ডলের বাড়িতেও তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেই কাজলেরও চোখধাঁধানো বৈভব। গ্রামের বাসিন্দারা বলছিলেন, ‘দেখতে দেখতে হঠাৎ বদলে গেল কাজল। চারচাকা নিয়ে ঘুরে বেড়াত। বাসিন্দাদের নানা প্রলোভন দেখাত। নিজে দু’টি ডাম্পারে করে সরাসরি টুলুর কাছ থেকে পাথর এনে সরবরাহ করত।’ রিপনের স্ত্রী আমিনা বেগমকেও টানা দু’ঘন্টা জেরা করে তদন্তকারীরা। তিনি কড়া নজরদারিতে রয়েছেন। আমিনা এদিন বলেন, ‘আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল পুলিশ। আমাদের পুরানো বাড়িতে আমি কেন গিয়েছিলাম? আমি কি কি জিনিস পাচার করেছি? কিন্তু, আমি কোনো জিনিস পাচার করিনি।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ