Bartaman Logo
২৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টুলু কাণ্ডে ‘রাঘববোয়াল’দের আড়াল করার অভিযোগ ভূমিদপ্তরের আধিকারিকের স্ত্রীর

টুলু মণ্ডলের পাথর পাচার চক্রে আসল ‘মাথা’ কারা? এই বিশাল সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা রাঘববোয়ালদের আড়াল করতেই কি শুধুমাত্র ভূমিদপ্তরের এক আধিকারিককে ‘বলির পাঁঠা’ করছে পুলিশ?

টুলু কাণ্ডে ‘রাঘববোয়াল’দের আড়াল করার অভিযোগ ভূমিদপ্তরের আধিকারিকের স্ত্রীর
  • ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: টুলু মণ্ডলের পাথর পাচার চক্রে আসল ‘মাথা’ কারা? এই বিশাল সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা রাঘববোয়ালদের আড়াল করতেই কি শুধুমাত্র ভূমিদপ্তরের এক আধিকারিককে ‘বলির পাঁঠা’ করছে পুলিশ? সোমবার সিউড়ি আদালত চত্বরে এই প্রশ্ন তোলেন ধৃত প্রবীর দাসের স্ত্রী এবং তাঁর আইনজীবী। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, চুনোপুঁটিদের ধরে টানাটানি চললেও আসল রাঘববোয়ালরা বহাল তবিয়তে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সোমবার সিউড়ি এসডিএলএলআরও অফিসের হেড অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রবীর দাসের চারদিনের পুলিশি হেপাজতের মেয়াদ শেষ হয়। এদিন ফের তাঁকে আদালতে তোলা হলে বিচারক ১০দিন জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৩ সেপ্টেম্বর। জানা গিয়েছে, ওইদিন এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সেহগাল হোসেন বাদে বাকি প্রত্যেক ধৃতকেই কোর্টে পেশ করা হবে।

Advertisement

গত কয়েকদিন পুলিশি হেপাজতে থাকার সময় প্রবীরকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বহরমপুরের শ্বশুরবাড়ি, মাড়গ্রামে ভূমিদপ্তরের এক অবসরপ্রাপ্ত কর্তার বাড়িতে তল্লাশি চলে। অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী সেহগালের ডোমকলের বাড়ি সহ একাধিক জায়গায় নিয়ে যায় পুলিশ। আর এই তল্লাশি নিয়েই এদিন ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রবীরের স্ত্রী সাথী দাস। এদিন তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, ‘আমার স্বামীকে নিয়ে তল্লাশির নাম করে গিয়ে বাপেরবাড়ি তছনছ করা হয়েছে। আমার স্বামীর উপর আরও অনেক বড় বড় মাথা রয়েছে। ক্ষমতা থাকলে আসল মাথাগুলোকে ধরুক।’ তাঁর আরও অভিযোগ, এতদিন ধরে তল্লাশি করে পুলিশ কিছুই পায়নি। এখন টুলু মণ্ডলের পাথরের কাগজ পুলিশ নিজেরাই আমার বাপেরবাড়িতে রেখে দিয়ে তা উদ্ধারের নাটক করছে।
ধৃতের আইনজীবী সোমনাথ মুখোপাধ্যায় আদালতে সওয়াল করেন, ‘উনি একজন সাধারণ কর্মী। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালন করতে গিয়েই অনিচ্ছা সত্ত্বেও তিনি চেকগেটে ডিউটি করেছিলেন। ফলে এই ঘটনায় প্রবীরবাবুর চেয়েও অনেক বড় বড় মাথা জড়িয়ে রয়েছে।’ তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া নথি সাজানো বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও এই তত্ত্ব খারিজ করে সরকারপক্ষের আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় পালটা দাবি করেন, ‘বিএনএস-এর নতুন নিয়ম অনুযায়ী তল্লাশি অভিযানের সম্পূর্ণ ভিডিওগ্রাফি করা হয়। তাই নথি সাজিয়ে রাখার অভিযোগের কোনও সত্যতা নেই।’
পুলিশের বাজেয়াপ্ত করা টুলু মণ্ডলের বেশ কয়েকটি গাড়ি থেকে টায়ার চুরির বিষয়টিও এদিন আদালতে তোলেন আইনজীবী সোমনাথবাবু। কোর্টের সম্পত্তি এভাবে চুরি যাওয়া নিয়ে তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাল্টা বিভাসবাবু বলেন, ‘এইসব গাড়ি টুলু মণ্ডলের। গাড়ির মালিকের প্রয়োজন হলে তিনি নিজে এসে আদালতে অভিযোগ করুন। বিচারকের কাছে এইসব অভিযোগ তুলে আসল তদন্তের গুরুত্ব লঘু করার চেষ্টা চলছে।’ 
পুলিশের দাবি, টুলুর সিন্ডিকেট যেসব দিনে ভূমিদপ্তরের কর্তাদের টাকা মিটিয়েছে সেই দিনগুলিতে চেকগেটে ডিউটিতে থাকতেন অভিযুক্ত প্রবীর। জেরায় সিন্ডিকেট থেকে টাকা নেওয়ার কথা নিজেমুখে স্বীকার করেছেন। প্রবীরের হাত ধরে ভূমিদপ্তরের উপরতলার কর্তাদের কাছে টাকা পৌঁছাত। তাই তিনি কোনোভাবে চুনোপুঁটি নয়। তদন্তে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ