ওয়াশিংটন: ‘ইরানের পরমাণু কর্মসূচি গোটা বিশ্বের জন্য ভয়ংকর হতে চলেছে।’ এমনটাই দাবি করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অথচ ইরানের সঙ্গে মার্কিন ও ইজরায়েলের যুদ্ধের আবহে এব্যাপারে ভিন্ন সুর মার্কিন গোয়েন্দা দপ্তরের প্রধান তুলসী গ্যাবার্ডের। গত বছরের জুনে ‘মিডনাইট হ্যামার’ অভিযানে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে বোমা বর্ষণ করেছিল আমেরিকা। তুলসী বলেছেন, ওই অভিযানের পর পরমাণু কর্মসূচি নতুন করে আর শুরুই করেনি তেহরান। তাঁর এই মন্তব্য ট্রাম্পের দাবিকেই প্রশ্নের মুখে ফেল দিল বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি তুলসীর মন্তব্য অস্বস্তিতে ফেলেছে ট্রাম্পের ‘বন্ধু’ দেশ পাকিস্তানকেও। তাঁর দাবি, এই মুহূর্তে চীনের পাশাপাশি পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচিও আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য বেশি বিপজ্জনক।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা দপ্তরের প্রধানের মন্তব্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরান-মার্কিন বৈঠকের মধ্যস্থতা করেছিলেন ওমানের বিদেশমন্ত্রী। তিনি দাবি করেছেন, পরমাণু আলোচনায় কোনোও অগ্রগতি হয়নি বলে যে দাবি করেছিলেন ট্রাম্প, তা আদৌ বাস্তব নয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েল। তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার কোনো ইচ্ছেই ট্রাম্পের ছিল না।
তুলসীর দাবি, ইরানের চেয়েও আমেরিকার জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যাথার কারণ ‘বন্ধু’ পাকিস্তানের কর্মসূচি। ইরান, চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে একই তালিকায় পাকিস্তানকে রেখেছেন মার্কিন গোয়েন্দা দপ্তরের প্রধান। তাঁর বক্তব্য, এই দেশগুলি এমন ক্ষেপনাস্ত্র তৈরি করছে যার পাল্লার মধ্যে আমেরিকা চলে আসবে। মার্কিন গোয়েন্দা প্রধানের মন্তব্য ঘিরে ইসলামাবাদকে তোপ দেগেছে নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের মন্তব্য, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আগেও গোপনে পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার বিস্তারের অভিযোগ উঠেছিল। আমেরিকার বিবৃতিই প্রমাণ করে গোটা বিশ্বের জন্য কতটা ভয়ংকর শাহবাজ শরিফের দেশ।