Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

‘বন্ধু’ মোদির সঙ্গে দ্বিচারিতা ট্রাম্পের, বৈঠকের প্রস্তাবের পরই ভারতের উপর চড়া শুল্কের পরামর্শ ইউরোপকে

নরেন্দ্র মোদি ‘বন্ধু’। তাঁর সঙ্গে বাণিজ্য বৈঠকে বসতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতদিন ভারতের বিরুদ্ধে ধাপে ধাপে আগ্রাসন ও আক্রমণ বাড়ানোর পর হঠাৎ এই দাবি করেছেন তিনি।

‘বন্ধু’ মোদির সঙ্গে দ্বিচারিতা ট্রাম্পের, বৈঠকের প্রস্তাবের পরই ভারতের উপর চড়া শুল্কের পরামর্শ ইউরোপকে
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নরেন্দ্র মোদি ‘বন্ধু’। তাঁর সঙ্গে বাণিজ্য বৈঠকে বসতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতদিন ভারতের বিরুদ্ধে ধাপে ধাপে আগ্রাসন ও আক্রমণ বাড়ানোর পর হঠাৎ এই দাবি করেছেন তিনি। আবার একইসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ট্রাম্প বলেছেন, ভারত ও চীনের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপাও। আমেরিকার দিক থেকেও প্রয়োজনে তার প্রতিফলন দেখা যাবে। যতদিন নয়াদিল্লি ও বেজিং তেল কিনে রাশিয়াকে যুদ্ধের অর্থ জুগিয়ে যাবে, ততদিন এভাবেই দুই দেশকে চাপে রাখতে হবে। অর্থাৎ, একই মুখ। কিন্তু মুখোশ দু’টি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দ্বিচারী অবস্থানে রীতিমতো কপালে ভাঁজ পড়েছে ভারতের। একদিকে ট্রাম্প বলছেন, ‘নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলতে চাই। বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা মোটেই বন্ধ হয়নি। আলোচনা চলবে। চুক্তিও হবে। শুল্ক নিয়েও কথা বলব। ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে যে বাণিজ্য প্রাচীর তৈরি হয়েছে, তা ভাঙতে বাণিজ্য বৈঠক চলবে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মোদির সঙ্গে কথা হবে। আমি নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করি, ভারত ও আমেরিকার মতো দুই মহান দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে শীঘ্রই।’ আর অন্যদিকে ইউরোপকে তাঁর সম্পূর্ণ উল্টো বার্তা! এই দ্বিচারিতার অর্থ কী?

Advertisement

কোন পথে ইউক্রেন বিরোধী আগ্রাসনের অর্থ জোগাড় বজায় রাখছে মস্কো? এই ইস্যুতে আলোচনার জন্যই একত্রিত হয়েছিলেন আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্তাব্যক্তিরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন আধিকারিকই সেখানে বলেন, ‘আমাদের ইউরোপের পার্টনাররা যদি সঙ্গে থাকেন, এই পর্বের শেষ দেখার জন্য আমরা তৈরি।’ কী সেই পর্ব? রাশিয়াকে ধাক্কা দিতে ভারত ও চীনের উপর সরাসরি আঘাত হানা। আর সেটা সম্ভব ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর মাধ্যমেই। এমনকী ট্রাম্প নিজেও এই বৈঠকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে জানিয়েছেন, ‘ভারত ও চীন যতদিন রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ না করে, শুল্কের আগ্রাসন বাড়াতেই হবে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দু’রকম অবস্থানে হতবাক গোটা বিশ্ব। অথচ, ট্রাম্প তাঁর ‘প্রিয় বন্ধু মোদির সঙ্গে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কথা বলার জন্য উদগ্রীব’—এই বক্তব্যের পর ভারতও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে বলেছেন, ‘আমিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। ভারত এবং আমেরিকা ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দুই রাষ্ট্রের মানুষের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’ তবে হ্যাঁ, অতি ঘনিষ্ঠতার পুরনো আবহে ট্রাম্প ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও মোদির বিবৃতিতে কিন্তু সেই চেনা ছন্দ নেই। কারণ, এখনই ট্রাম্পের কথায় ভেসে যেতে চায় না ভারত। সাম্প্রতিক এসসিও সম্মেলনে ভারত, চীন ও রাশিয়ার অক্ষ নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে তুমুল চর্চা তৈরি হয়েছে, তাতে এখনই জল ঢালতে চাইছে না নয়াদিল্লি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট যদি সেই চাপে সুর নরম করেই থাকেন, সেটাও সতর্কভাবে সামাল দেবে ভারত সরকার। আর একটি লক্ষ্য হল, চীন ও রাশিয়াও যেন এমন বার্তা না পায় যে, ভারত পুনরায় আমেরিকার শিবিরে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ