


ওয়াশিংটন: দিনকয়েক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে নিজের নোবেল পুরস্কার তুলে দেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলনেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তাতেও মন ভরেনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের। এবারে ‘গ্রিনল্যান্ড’ ইস্যুতে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গোর স্টোরের উদ্দেশে চিঠি লিখলেন ডন। পাবলিক ব্রডকাস্টিং সার্ভিস (পিবিএস) সূত্রে খবর, চিঠিতে গ্রিনল্যান্ডের অধিকার আমেরিকা নিজেদের হাতে নেবে বলে সাফ জানিয়েছেন তিনি। আর তা যে শান্তিপূর্ণভাবে নাও হতে পারে, সেকথাও উল্লেখ করেছেন। আর নিজের এই পদক্ষেপের জন্য শান্তিতে নোবেল না পাওয়ার দিকেই আঙুল তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
চিঠিতে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘প্রিয় জোনাস: আটটিরও বেশি যুদ্ধ থামানোর পরেও আমাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আপনার দেশ। শান্তির বিষয়টি সবসময় গুরুত্বপূর্ণ হলেও আমি আর শুধুমাত্র শান্তির কথা ভাবতে বাধ্য নই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যা ভালো ও সঠিক, আমি তা নিয়েই ভাবব।’ এর পরেই গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ডেনমার্কের দাবি নিয়ে মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বলেছেন, রাশিয়া বা চীনের হাত থেকে গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করার সামর্থ্য ডেনমার্কের নেই।
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘রাশিয়া বা চিনের হাত থেকে ওই অঞ্চলকে রক্ষা করতে পারবে না ডেনমার্ক। আর তাদের হাতে এই মালিকানার অধিকারই বা কেন থাকবে? এর কোনো লিখিত দলিল নেই। কয়েকশো বছর আগে সেখানে একটি নৌকা অবতরণ করেছিল, কিন্তু আমাদের নৌকাও তো সেখানে অবতরণ করেছিল। ন্যাটো প্রতিষ্ঠার পর থেকে অন্য যে কোনো ব্যক্তির থেকে তাদের জন্য বেশি করেছি। এখন ন্যাটোর উচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কিছু করা। আমরা যতক্ষণ না পর্যন্ত সম্পূর্ণ গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছি, ততক্ষণ পর্যন্ত এই পৃথিবী নিরাপদ হবে না।’ নরওয়ের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ট্রাম্পের চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন জোনাস। তিনি জানান, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড সহ একাধিক দেশের উপর শুল্কের বোঝা চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার প্রতিবাদে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন জোনাস ও ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টুব। ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারিমূলক চিঠি তারই পালটা জবাব বলে মত নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর। প্রসঙ্গত, বিশ্বজুড়ে একাধিক যুদ্ধ থামানোর জন্য নোবেল পুরস্কার তাঁর প্রাপ্য বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তাতে লাভ হয়নি। তার পরেই নরওয়েকে নিশানা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও এই নোবেল পুরস্কার দেওয়ার ভার নরওয়ে সরকারের হাতে নেই। তা ঠিক করে নোবেল কমিটির সদস্যরাই। তার পরেও রাগ কমেনি ট্রাম্পের।