


তেহরান: কথা দিয়েও কথা রাখেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই, শনিবার থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ফের নিষেধাজ্ঞা জারি করল ইরান। শুক্রবার ইরান সারা বিশ্বের জন্য হরমুজ ফের খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও ট্রাম্প বলে দেন, তিনি ওই প্রণালীকে ঘিরে নৌ-অবরোধ চালিয়ে যাবেন। আর তাতেই ক্ষিপ্ত তেহরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ দাবি করেন, ট্রাম্প এক ঘণ্টায় সাতটি দাবি করেছেন—যার সব কটিই মিথ্যা। তবে, ট্রাম্প কী কী মিথ্যা দাবি করেছে, তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি তিনি। ইরানের সেনা কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নৌ-অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করে ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতি ভেঙেছে। ইরানমুখী সমস্ত জাহাজকে আমেরিকা স্বাধীনভাবে চলাচল করতে না দেওয়া পর্যন্ত, হরমুজ প্রণালীতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ জারি থাকবে। আগের মতোই সেনা এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে। তেহরান যে ফের হরমুজ বন্ধ করতে পারে, তার ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। ঘালিবাফ এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত কেবল নির্ধারিত রুট এবং ইরানের অনুমোদন সাপেক্ষেই পরিচালিত হবে। কিন্তু মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে, হরমুজ আর খোলা থাকবে না।’ হরমুজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের দাম ফের বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এক মাসের বেশি সময় সংঘর্ষ চলার পর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল ইরান ও আমেরিকা। পাকিস্তানের মাটিতে শান্তি বৈঠকেও বসে দু’পক্ষ। যদিও তাতে সমাধানসূত্র মেলেনি। হরমুজ নিয়েও জটিলতা কাটছিল না। তবে, লেবানন-ইজরায়েল সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হতেই শুক্রবার গোটা বিশ্বের জন্য হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করে দেয় ইরান। বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ‘লেবাননে সংঘর্ষবিরতির প্রেক্ষাপটে সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্যই হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা হল। সংঘর্ষবিরতির শেষদিন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খোলা থাকবে।’ কিন্তু ট্রাম্প জানান, যতক্ষণ না পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হচ্ছে, ততদিন নৌ-অবরোধ চলবে। আর তাতেই নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়। যদি ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত না হয়, তাহলে ফের বোমাবর্ষণ করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প।