ওয়াশিংটন: ভারতের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর অধিকার দেওয়া হল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রাশিয়ার থেকে তেল কেনার শাস্তি হিসাবেই চাপানো হতে পারে এই বিপুল শুল্কের বোঝা। বহুদিন ধরেই আমেরিকা বলে আসছে, খনিজ তেল বিক্রি করে পাওয়া টাকা ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করছে মস্কো। সে কারণে ভারত সহ সব দেশকে রুশ তেল কেনা থেকে বিরত থাকতে বলেছিল আমেরিকা। সেই হুঁশিয়ারি উড়িয়ে দেয় নয়াদিল্লি। রাশিয়ার থেকে অশোধিত তেল কেনা ভারত চালিয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ থাকলেও, তা নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়নি ওয়াশিংটন। কিন্তু আর নয়! মঙ্গলবার মার্কিন সংসদের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে রাশিয়ার থেকে তেল কেনা দেশগুলির উপর ট্রাম্পকে ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর অধিকার দিয়ে আইন পাশ হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বৃদ্ধিরও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
প্রয়াত হাউস সদস্য তথা রিপাবলিকান নেতা লিন্ডসে ও’গ্রাহামের নামে ওই আইনটির নামকরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তীব্র বিতর্কের পরে ২১৪-২১১ ভোটে ‘দ্য লিন্ডসে ও’গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট ২০২৬’ পাশ হয়। দলীয় অবস্থান থেকে সরে এসে দু’জন ডেমোক্র্যাট সদস্য রিপাবলিকানদের পক্ষে ভোট দেন। কোনোরকম সুরক্ষা ছাড়া ট্রাম্পের হাতে এত বিপুল ক্ষমতা দেওয়ার বিরোধিতা করেন ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস। তবে ট্রাম্পকে ক্ষমতা দেওয়া নিয়ে আইন পাশ রোখা যায়নি।
মার্কিন শুল্কের খাঁড়া নামার উদ্যোগ শুরু হতেই মোদি সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে কংগ্রেস। বিদেশ এবং বাণিজ্য নীতির ব্যর্থতা তুলে ধরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের খোঁচা, ‘হাউডি মোদিজি আত্মসমর্পণ করা বজায় রেখেছেন।’ এক্স হ্যান্ডলে তিনি আরও লেখেন, ‘প্রথমে ২৫ শতাংশ। এরপর ৫০ শতাংশ। এখন আবার ভারতীয় পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ভারতীয় কৃষকদের স্বার্থ বন্ধক রেখে মোদি সরকারই বাণিজ্য চুক্তি করে ভারতে মার্কিন পণ্য প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছে। এইভাবে পাঁচ বছরে আমেরিকার থেকে কার্যত ৫০ হাজার কোটি ডলারের পণ্য কিনবে ভারত।’