ওয়াশিংটন: ভোটে জিতলেই নাগরিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ঢুকবে ভাতা। নির্বাচনী মরশুমে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এই ধরনের প্রতিশ্রুতি এই মুহূর্তে খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। যা নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। কিন্তু এবার একই ধরনের খয়রাতির রাজনীতি মার্কিন মুলুকেও! পোশাকি নাম ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ট। আমেরিকায় মিডটার্ম ইলেকশনে রিপাবলিকানরা জিতলেই প্রত্যেক নাগরিকের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় পৌনে পাঁচ লক্ষ টাকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমনই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ডালাসে রিপাবলিকানদের একটি অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ ও সেনেট, মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষেই রিপাবলিকানরা জিতলে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে ডিভিডেন্ট দেওয়া হবে। তবে শর্ত রয়েছে। সেই অর্থ কেবল দেশেই খরচ করতে হবে।’ ট্রাম্প আরও জানান, তিনি চান না ওই অর্থ কানাডা, চীন বা জার্মানিতে খরচ করা হোক।
তথ্যাভিজ্ঞ মহল জানিয়েছে, ট্রাম্প ঘোষিত এই খয়রাতির বাস্তবায়িত করতে গেলে ১.৩০ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হবে। যদিও সেদেশের নিয়ম অনুযায়ী, ট্রাম্প চাইলেই ওই ভাতা দিতে পারবেন না। তার জন্য মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনেরও প্রয়োজন হবে। এব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন ওহিও-র রিপাবলিকান সেনেটর বার্নি মোরেনো। তিনি জানিয়েছেন, ‘৩ নভেম্বর নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হলেই এই সংক্রান্ত বিল পেশ করবে রিপাবলিকানরা।’
এধরনের খয়রাতি নিয়ে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের একহাত নিয়েছে বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবির। ওই প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে তারা। ডেমোক্র্যাটদের বক্তব্য, এধরনের প্রতিশ্রুতি ফাঁপা বুলি মাত্র। যদিও মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন, ধনী নাগরিকরা ট্রাম্প ডিভিডেন্টের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। শুল্ক থেকে উপার্জিত অর্থ থেকেই এই ডিভিডেন্ট দেওয়া হবে। এদিকে দ্য বুলওয়ার্ক পত্রিকার সম্পাদক স্যাম স্টেইন এই ঘোষণাকে ‘রিপাবলিকানদের ভোট দেওয়ার জন্য সরাসরি ঘুষ’ বলে তোপ দেগেছেন।