নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুকনো ঝোপঝাড় থেকে প্রবল দুর্গন্ধ। একজন পথচারী উঁকি দিয়ে দেখলেন, চিৎ হয়ে পড়ে এক মহিলা। নিথর দেহ। পচে গলে গিয়েছে। ভনভন করে উড়ছে মাছি। মহিলার গলায় গভীর ক্ষতচিহ্ন। মঙ্গলবার তারাতলা রোড এলাকার একটি ঝোপে অজ্ঞাতপরিচয় ওই মহিলার দেহ দেখে স্থানীয়রা খবর দেন পুলিসে। তারাতলা থানা ও লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের হোমিসাইড শাখা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহ উদ্ধার করে। মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। সূত্রের খবর, মাঝেরহাট ও ব্রেসব্রিজ স্টেশনের মাঝামাঝি জায়গায় রেললাইন থেকে ৬০ মিটার দূরে ঘটনাটি ঘটেছে। এক পথচারী দেহটি প্রথম দেখেন। তিনি সবাইকে খবর দেন। ঘটনার কথা চাউর হওয়ার পর ভিড় জমে যায়। পুলিসে খবর দেওয়া হয়। লালবাজারের এক আধিকারিক বলেন, দেহ অন্তত দু’থেকে তিনদিনের পুরনো। পচন ধরে গিয়েছে। মুখ ও শরীরের একাধিক অংশ গলে গিয়েছে। দেহ চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তা ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। বুধবার এসএসকেএম হাসপাতালে পোস্টমর্টেম হওয়ার কথা। তার প্রাথমিক রিপোর্ট আসার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তারাতলা রোডের একাধিক জায়গায় পুলিসের সিসি ক্যামেরা রয়েছে। উদ্ধারস্থলের অদূরে একাধিক কারখানা আছে। সেগুলির দরজাতেও রয়েছে সিসি ক্যামেরা। তার শেষ চারদিনের ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু করেছেন তারাতলা থানার পুলিস। জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই মৃত্যু রহস্যের জট খুলতে পারে এমন কোনও ছবি দেখতে পাননি তদন্তকারীরা। ওই কারখানাগুলির নিরাপত্তারক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। তবে দেহ চিহ্নিত না হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে তদন্তপ্রক্রিয়া। দেহ চিনতে তারাতলা ও কলকাতা পুলিসের আশপাশের থানাগুলিতে শেষ চারদিনে কোনও নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছে কি না তা খোঁজ নিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। তারাতলা কলকাতা পুলিস এলাকার প্রান্তিক থানা হওয়ায় ডায়মন্ড হারবার পুলিস জেলারও সাহায্য নেওয়া হচ্ছে দেহ চিহ্নিতকরণের জন্য।



