নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: তৈরির পর কেটেছে দু’ বছর। তবুও দুয়ার খোলেনি রানাঘাট হাসপাতালে নবনির্মিত হাইব্রিড ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের (এইচসিসিইউ)। আদৌ কবে চালু করা যাবে এই ইউনিট তা জানেই না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে, সিসিইউ না থাকায় সংকটজনক রোগীদের বাধ্য হয়েই নিয়মিত রেফার করতে হয় কল্যাণী অথবা কলকাতার হাসপাতালগুলিতে।
Advertisement
জেলার অন্যতম জনবহুল মহকুমা রানাঘাট। মহকুমাতে রয়েছে জেলার অন্যতম বড় শহরটিও। বিস্তীর্ণ এই মহকুমার চিকিৎসা নির্ভর করছে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালের উপরেই। কারণ হাঁসখালি হোক বা সীমান্ত লাগোয়া দত্তপুলিয়া, গাংনাপুরের প্রত্যন্ত এলাকা হোক বা রানাঘাট শহরের প্রাণকেন্দ্র, চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকেই মানুষকে ছুটে আসতে হয় এই হাসপাতালে। ফলে জেলার বাকি মহকুমা হাসপাতালের তুলনায় রানাঘাটে চাপ অনেকটাই বেশি। এছাড়াও জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনায় আহতদেরও নিয়ে আসা হয় এখানেই। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই একটি ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে কাজ চলছে এইচডিইউ অর্থাৎ হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট দিয়েই। তাই বছর দুয়েক আগে তৈরি হয় হাইব্রিড সিসিইউটি। ২৪টি শয্যাযুক্ত এই বিশেষ ইউনিট চালু হলে কমবে রানাঘাট হাসপাতাল থেকে রেফার সংখ্যা। মান উন্নয়ন হবে রানাঘাট হাসপাতালেরও। কিন্তু পরিস্থিতি দেখে রোগী পরিজনরা বলছেন, রানাঘাট হাসপাতালে সিসিইউ থেকে চিকিৎসা পরিষেবার আশা সুদূর পরাহত। কারণ গত দু›বছর ধরে ইউনিট তৈরি হয়ে পড়ে থাকলেও তা চালু করা যায়নি কর্মীর অভাবে। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, ২৪ শয্যা যুক্ত সি সি ইউ ইউনিটের জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে ২৪ জন নার্সিং স্টাফ। এছাড়াও চাই, ১২ জন মেডিক্যাল অফিসার। ১৮ জনের কাছাকাছি সাফাই কর্মী, সাপোর্ট স্টাফ এবং ন্যূনতম ৬ জন টেকনিশিয়ান প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে এত লোকবলই নেই! ফলে স্বাস্থ্যদপ্তর যতক্ষণ না লোক দিচ্ছে, ততক্ষণ এই ইউনিট কেবল খাতায় কলমেই রয়েছে। বিশেষ সূত্রের খবর, বর্তমানে যা পরিস্থিতি তাতে এত সংখ্যক স্টাফ দেওয়া কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। ফলে আগামী আরও এক বছরেও এই হাইব্রিড ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট চালু হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আবার ইউনিট তৈরি করে ফেলে রাখা নিয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ রোগীর পরিজনরা। অনন্যা বিশ্বাস নামে এক রোগীর আত্মীয় বলেন, সংকটজনক রোগীকে কল্যাণীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রানাঘাটেই সেই চিকিৎসা করা সম্ভব হতো যদি ওই ইউনিট চালু হতো। কিন্তু স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ে না। নদীয়া জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জ্যোতিষচন্দ্র দাস বলেন, নিয়োগ তো আমাদের পক্ষে করা সম্ভব নয়। রাজ্যস্তর থেকে যখন নিযোগ হবে তখনই লোক দেওয়া সম্ভব। তবে আমরা দ্রুত বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা করছি। আশা করছি, তাড়াতাড়ি রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালের ওই বিশেষ ইউনিট থেকে পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে। • নিজস্ব চিত্র



