নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রাত সাড়ে ১২টা হলেও প্ল্যাটফর্মে তখন যাত্রীদের ভিড়। হাওড়া স্টেশনের নিউ কমপ্লেক্সের ১৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে বেঙ্গালুরুগামী যশবন্তপুর এক্সপ্রেস। আর পাঁচটা ট্রেনের মতো সেখানে হাজির বেশ কয়েকজন আরপিএফ জওয়ান। হঠাৎই দেখা যায়, এক যুবক এই ট্রেনের ছাদে দাঁড়িয়ে। সবার নজর এড়িয়ে কোনওভাবে উঠে গিয়েছেন তিনি। তারপর যা ঘটল, তা শিহরণ জাগানোর মতো। মাথার উপরেই ছিল ২৫ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তার। তা স্পর্শ করতেই ঝলসে যায় তাঁর শরীর। তাঁকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার গভীর রাতে। জানা গিয়েছে, ওই যুবক মানসিক ভারসাম্যহীন। নাম শম্ভুকুমার যাদব। বাড়ি ঝাড়খণ্ডের বোকারোয়।
Advertisement
তাঁকে ট্রেনের ছাদে দেখে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। খবর পেয়ে ছুটে আসে রেল পুলিস। তাঁরা ওই যুবককে বারে বারে নীচে নামার অনুরোধ করলেও, কে কার কথা শোনে! মনের সুখে তিনি তখন হাত-পা ছুড়ছেন ছাদে বসে। মাথার উপরে থাকা ২৫ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তারকে থোড়াই কেয়ার মানসিকতা তাঁর। এর মধ্যেই আলোর ঝলকানি। ওই তারে শরীর স্পর্শ করতেই ঝলসে গেলেন তিনি। প্ল্যাটফর্মে থাকা যাত্রী ও রেল পুলিস চেয়ে চেয়ে দেখল এক মর্মান্তিক দৃশ্য। উপস্থিত রেল পুলিসের কর্মীরা তৎক্ষণাৎ অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্রের সাহায্যে আগুন নিভিয়ে ওই যুবককে নীচে নামিয়ে আনেন। এরপর নিয়ে যাওয়া হয় হাওড়া জেলা হাসপাতালে। ভর্তি করা হয় বার্ন ইউনিটে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, যুবকের শরীর প্রায় ৫০ শতাংশ ঝলসে গিয়েছে। খবর পেয়ে বোকারো থেকে চলে আসে তাঁর পরিবার।
শনিবার শম্ভুপ্রসাদকে চিকিৎসার জন্য বোকারোয় নিয়ে গিয়েছে পরিবার। গোটা ঘটনায় হাওড়া স্টেশনের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। যাত্রীদের একাংশের কথায়, প্রতিটি প্ল্যাটফর্ম সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে মোড়া থাকে। এত সংখ্যায় রেল পুলিস রয়েছে। তারপরেও কী করে এক ব্যক্তি নজর এড়িয়ে ট্রেনের ছাদে উঠলেন? রেল পুলিসের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি দেখার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবক কীভাবে ঝাড়খণ্ড থেকে হাওড়া স্টেশনে এসেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শনিবার শম্ভুপ্রসাদকে চিকিৎসার জন্য বোকারোয় নিয়ে গিয়েছে পরিবার। গোটা ঘটনায় হাওড়া স্টেশনের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। যাত্রীদের একাংশের কথায়, প্রতিটি প্ল্যাটফর্ম সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে মোড়া থাকে। এত সংখ্যায় রেল পুলিস রয়েছে। তারপরেও কী করে এক ব্যক্তি নজর এড়িয়ে ট্রেনের ছাদে উঠলেন? রেল পুলিসের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি দেখার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবক কীভাবে ঝাড়খণ্ড থেকে হাওড়া স্টেশনে এসেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



