Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যুতে ২৩ বছর পর ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যুতে ২৩ বছর পর ক্ষতিপূরণের নির্দেশ
  • ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে মারা গিয়েছিলেন স্বামী। রেলের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ করে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন স্ত্রী। কিন্তু অভিযোগ ধোপে টেকেনি। খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল। ২৩ বছর আইনি লড়াই লড়ে হাইকোর্ট থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে নিলেন স্ত্রী। 
Advertisement
২০০১ সালের ১৭ জুনের ঘটনা। প্রতিদিনের মতো বীরশিবপুর থেকে রামরাজাতলায় যাচ্ছিলেন হাওড়ার ব্যাঁটরা থানার বৃন্দাবন মল্লিক লেনের বাসিন্দা বছর সত্তরের কাশীনাথ দলুই। ট্রেনে যথেষ্ট ভিড় ছিল। তার মধ্যেই চালক হঠাৎ ব্রেক কষেন। অভিঘাত সামলাতে না পেরে ট্রেন থেকে পড়ে যান কাশীনাথবাবু। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে হাওড়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হলেও শেষরক্ষা হয়নি। ঘটনার দিনই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রায় এক বছর পর রেলের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করে আবেদন করেন কাশীনাথবাবুর স্ত্রী গীতা দলুই। আবেদনের সঙ্গে মান্থলি টিকিটের কপি, ডেথ সার্টিফিকেট, হাসপাতালের চিকিৎসার সমস্ত নথি জমা করেন। বিষয়টি যায় রেলওয়ে ক্লেইমস ট্রাইব্যুনালে। প্রায় দু’বছর পর আবেদনটি খারিজ করে ট্রাইব্যুনাল জানিয়ে দেয়, আবেদনটি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এক্ষেত্রে রেলের গাফিলতি ছিল না। রেলওয়ে আইনের ১২৩(সি) নম্বর ধারা অনুযায়ী এক্ষেত্রে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে মৃত্যু ঘটেনি। ফলে এই মৃত্যুর ক্ষেত্রে রেলের কোনও দায় নেই। এছাড়াও ট্রাইব্যুনাল জানায়, ঠিক কোথায় দুর্ঘটনা ঘটেছে, আবেদনে তার কোনও উল্লেখ নেই। ঘটনার কোনও প্রত্যক্ষদর্শীও নেই। কোন প্রেক্ষিতে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার প্রমাণ নেই। তাছাড়া জিআরপিতেও কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তাই এই আবেদনের কোনও সারবত্তা নেই। 
ট্রাইব্যুনালের এই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মৃতের স্ত্রী। দীর্ঘ সময় ধরে সেই মামলা চলার পর ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সমস্ত তত্ত্ব খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি শম্পা দত্ত (পাল)। রায়ে বিচারপতি জানিয়ে দেন, যে তথ্য উঠে এসেছে, তাতে স্পষ্ট রেল দুর্ঘটনাতেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বিচারপতি জানান, দুর্ঘটনার পরই ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁর কাছে বৈধ টিকিট রয়েছে। ওই ঘটনার কথা হাওড়া পুলিস সুপারের তরফে হাওড়া জিআরপি-র আইসিকে জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি মেডিকেল অফিসারের রিপোর্টে স্পষ্ট ট্রেন দুর্ঘটনার কারণেই দেহের বিভিন্ন জায়গায় তাঁর গুরুতর আঘাত লাগে এবং হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। ব্যাঁটরা থানার তরফেও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে রামরাজাতলার কাছে দুর্ঘটনার পর ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। ফলে ওই ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য। এরপরই রায়ে বিচারপতি জানিয়ে দেন, ওই ব্যক্তির পরিবারকে ক্ষতিপূরণের আবেদন জানানোর তারিখ থেকে ৬ শতাংশ সুদ সহ ৮ লক্ষ টাকা মিটিয়ে দিতে হবে রেল কর্তৃপক্ষকে। ছয় সপ্তাহের মধ্যে নির্দেশ কার্যকর করতে হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ