


বিশেষ সংবাদদাতা, আগরতলা: বিজেপির সুশাসনের রাজ্যে ফের প্রকাশ্যে দুর্নীতির চিত্র। ডবল ইঞ্জিন সরকারের ‘স্বচ্ছ উন্নয়নের’ খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ত্রিপুরায় ঊনকোটি জেলার পাবিয়াছড়া ও ফটিকরায় বিধানসভার সংযোগকারী সোনাইমুড়ি তেলিয়াগ্রামে নির্মীয়মাণ সেতুর একটি বিশাল অংশ মাঝ নদীতে ভেঙে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু তৈরির সময় কাটমানি আদায়ের ফলে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ হচ্ছিল। তা থেকেই এই ঘটনা। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতু তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল।
সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় রীতিমতো চাপে বিজেপি সরকার। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই কাজের দ্বায়িত্বে থাকা পূর্তদপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে বলেন, ব্রিজ ভাঙেনি। ব্রিজের একটি অংশ ভেঙে পড়েছে, যা সেন্টারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে, কুমারঘাট পূর্তবিভাগের আধিকারিক রতিরঞ্জন দেবনাথ জানান, প্রায় ১৪০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি ব্রিজটির নির্মাণকাজ চলছিল। ৩৫ মিটার স্প্যানের সুপার-স্ট্রাকচার ঢালাইয়ের সময় আচমকাই ব্রিজের একটি অংশ ভেঙে পড়ে।
বিষয়টি নিয়ে সুর চড়িয়েছেন কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। ব্রিজ নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সরকারের কাছে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিও জানান তিনি। ব্রিজ নির্মাণে রাজ্য সরকার নির্মাণকারী সংস্থার থেকে কাটমানি আদায় করেছেন বলেও অভিযোগ জানান এই প্রাক্তন মন্ত্রী। বাম নেতা সুব্রত দাসও সেতু নির্মাণে কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। প্রসঙ্গত, এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। ২০১৭ সালে ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করা হয়েছিল। সরকার পরিবর্তনের পর বিজেপি সরকারের আমলে শুরু হয় এই কাজ।