


সংবাদদাতা, লালবাগ: পানীয় জল সংকট নবগ্রামের দীর্ঘদিনের সমস্যা। এই জল সংকটের স্থায়ী সমাধানে প্রায় পৌনে তিনশো কোটি টাকা খরচে বিনোদপুর গড়ে উঠেছে মেগা পরিস্রুত পানীয় জল প্রকল্প। নবগ্রামের আসনটি দখলে রাখতে বিনোদপুরে গড়ে ওঠা জল প্রকল্পকে হাতিয়ার করে প্রচারে ঝাঁপিয়েছে তৃণমূল। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বহু ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের চেষ্টার ফসল এই জল প্রকল্প। এই প্রকল্পের জন্য জমির কোনো সমস্যা হয়নি। সামান্য বাকি কাজটুকু শেষ করে খুব শীঘ্রই বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হবে। এই প্রকল্পে নবগ্রাম ব্লকের ১৪টি অঞ্চল এবং মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ ব্লকের ২টি অর্থাৎ মোট ১৬টি অঞ্চলের ৭০ হাজারের বেশি পরিবার উপকৃত হবে।
যদিও বিজেপি প্রার্থী দিলীপ দাস বলেন, প্রকল্প হলেও জল পৌঁছানো নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। গত পাঁচ বছরে নবগ্রামে সেই অর্থে কোনো উন্নয়ন হয়নি। সেই কারণে জল প্রকল্পকে সামনে রেখে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করছে। কংগ্রেস প্রার্থী হীরু হালদার বলেন, জল প্রকল্পে নবগ্রামের মানুষ কতটা উপকৃত হবে সেটা সময়ই বলবে। তবে এই প্রকল্পে তৃণমূলের ছোটো থেকে বড়ো নেতাদের পকেট ভরেছে, সেই বিষয়ে বলার অবকাশ রাখে না।
ভাগীরথীর পশ্চিম পাড়ের নবগ্রাম রাঢ় অঞ্চল হিসাবে পরিচিত। বীরভূম লাগোয়া এই এলাকায় গ্রীষ্মকাল পড়তেই পানীয় জলের চরম সংকট দেখা দেয়। এই সমস্যা দূর করতে ১৯৮৩ সালে তৎকালীন সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। কিন্তু, জমি জটিলতার কারণে প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ে। কিন্তু, রাজ্যে পালা বদলের পর নবগ্রামের জল সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হন। পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় নবগ্রাম থানার কিরীটেশ্বরী পঞ্চায়েতের বিনোদপুরে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করে শুরু হয় পরিস্রুত পানীয় জল প্রকল্পের কাজ। রাজ্য সরকার এই মেগা প্রকল্পের জন্য ২৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে। এর জন্য ডাহাপাড়া পঞ্চায়েতের ভাগীরথী নদী সংলগ্ন ফারহাবাগ এলাকায় দু’বিঘা জমি কেনা হয়। ওই এলাকায় ভাগীরথী নদী থেকে জল তুলে পাইপের মাধ্যমে নবগ্রাম নিধানসভা এলাকার বিনোদপুরে পৌঁছাবে কেন না কিরীটেশ্বরী পঞ্চায়েতের বিনোদপুর মৌজায় ২০ বিঘা জমিতে মূল প্রকল্পটি রয়েছে। সেখানে ভাগীরথীর জল পরিস্রুত হয়ে নবগ্রাম ব্লকের ১৪টি পঞ্চায়েত এবং মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ ব্লকের মুকুন্দবাগ ও ডাহাপাড়া পঞ্চায়েতের গ্রামে গ্রামে পৌঁছে যাবে। তৃণমূল প্রার্থী প্রণবচন্দ্র দাস বলেন, এই প্রকল্পে প্রায় ৭১ হাজার পরিবার পরিস্রুত পানীয় জল পরিষেবা পাবে। এর জন্য ১৬টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মোট ২২টি জলাধার তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। জলাধারের মধ্যে ১১টি সরকারি খাস জমিতে গড়ে উঠেছে এবং বাকি ১১টির জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা জমি দান করেছেন। প্রকল্পে বেশ কয়েকজন স্থানীয় যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থান হয়েছে।
নবগ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি মহম্মদ এনায়েতুল্লাহ বলেন, মানুষকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ওই জল দেওয়া হবে। এর জন্য কোনোরকম ট্যাক্সও মেটাতে হবে না। বিনোদপুরের বাসিন্দা পরিতোষ দাস বলেন, পানীয় জল নবগ্রাম ব্লকের অন্যতম প্রধান সমস্যা। গ্রীষ্মকাল পড়তেই পানীয় জলের হাহাকার পড়ে যায়। ওইসময় কয়েক মাস জল কিনে খাওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। জল প্রকল্প গড়ে ওঠায় নবগ্রাম ব্লকের বিগত বেশ কয়েক দশকের জল সংকট সমস্যা মিটতে চলেছে।