Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তৃণমূলের প্রতীক: আজ কমিশনে দু’পক্ষই, মমতার স্বাক্ষর হাতিয়ার কালীঘাট শিবিরের

তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে কমিশনে মমতা ও ঋতব্রত আজ বক্তব্য রাখবেন। রাজনৈতিক লড়াইয়ে গুরুত্ব সহকারে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। বিস্তারিত পড়ুন।

তৃণমূলের প্রতীক: আজ কমিশনে দু’পক্ষই, মমতার স্বাক্ষর হাতিয়ার কালীঘাট শিবিরের
  • ৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জোড়াফুল প্রতীক কার? কালীঘাট তৃণমূলের নাকি বিদ্রোহী তৃণমূলের! এই মোক্ষম প্রশ্নের উত্তর এখন নির্বাচন কমিশনের ঘরে। তবে তার আগে আজ, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে দু-পক্ষের জবাব তলব করেছে কমিশন। দু-পক্ষই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের বক্তব্য কমিশনকে জানাবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেরেক ও’ ব্রায়েন কমিশনে গিয়ে বক্তব্য জানিয়ে আসবেন। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, কমিশন যে-সময়সীমা দিয়েছে, তার আগেই আমরা কাগজপত্র জমা দেব। 

Advertisement

ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই বাংলার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আলোচনা চলছে, জোড়াফুল প্রতীক কার হাতে উঠবে, তা নিয়ে। ইতিমধ্যে দলের প্রধান পার্টি অফিস মমতা তৃণমূলের হাতছাড়া! সেটি চলে গিয়েছে ঋতব্রত তৃণমূলের দখলে। জোড়াফুল প্রতীক এবং পার্টি ফান্ড কার হাতে যায়, তা নিয়েই এখন চর্চা অব্যাহত। 
এই আবহে দলের আদি ইতিহাস টেনে এনেছেন মমতাপন্থী তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর বক্তব্য, ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা হয়। পার্টি তৈরির সময় সই করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অজিত পাঁজা। সেই সংক্রান্ত কাগজপত্র নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রথম দিন থেকেই আছে। সেই নিরিখে কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করলে মমতার হাতেই জোড়াফুল প্রতীক থাকা উচিত। তাঁর সংযোজন, আমরাই আসল তৃণমূল। আজকের বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত তখন কোথায় ছিলেন? এসএফআইতে। তৃণমূলের ইতিহাস জানেন না তিনি। 
পালটা জবাব দিয়েছেন, ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক তথা বিদ্রোহী তৃণমূলের চেয়ারম্যান অরূপ রায়। তাঁর বক্তব্য, ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস দল তৈরির সময় ফার্স্ট ক্লাস জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে ১৩০টি এফিডেভিট জমা দেওয়া হয়েছিল। তাতে প্রথম সইটা ছিল আমার। সই করেছিলেন হাওড়ায় আমার একাধিক সহকর্মীও। সেই কাগজপত্র ফাইল খুললেই পেয়ে যাবে কমিশন। সুতরাং কারা আসল তৃণমূল, সেটা কমিশন নিশ্চয় সবদিক পর্যালোচনা করেই ঠিক করবে। বাকি কে, কী বলছেন, সেটা বিবেচ্য নয়।
তৃণমূলের দু-পক্ষের প্রতীক দখলের লড়াইয়ে খোঁচা দিতে ছাড়েনি বিজেপি। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ওদের প্রতীক দখলের লড়াইটা আসল নয়, আসল লড়াই হল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত কয়েক শো কোটি টাকার ফান্ডের দখল নিয়ে। ওদের নিজেদের লড়াইয়ে আগামী দিনে ইভিএমে জোড়াফুল প্রতীকই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। 
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য, প্রথমে কংগ্রেস থেকে ২১ জুলাই চুরি করেছে তৃণমূল। এখন তৃণমূল পার্টিটাই চুরি হয়ে যাচ্ছে। আগে বাসের পিছনে লেখা থাকত, ‘নিজের মাল নিজের দায়িত্বে রাখুন’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাখতে পারেননি, তার জন্যই তৃণমূলের এই অবস্থা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ