


রামকুমার আচার্য, পুরশুড়া: রোদে ঘেমে নেয়ে এসে টোল প্লাজার শেডের নীচে এসে বসলেন এক ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ। পুরশুড়ায় সোদপুর সংলগ্ন কাঁড়িগোলার কাছেই তাঁর বাড়ি। বুধবার দুপুরে কথা হচ্ছিল ভোট নিয়ে। তাঁর সাফ জবাব, বৃদ্ধ ভাতা পাচ্ছি। মেয়ের স্বামী মারা যাওয়ায় বিধবা ভাতাও চালু হয়েছে। টানাটানির সংসারে ওই ভাতার টাকা দিয়েই কোনোরকমে চলে যায়। সেখানেই আরএক ব্যক্তি বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি কলকাতায় চাকরি করেন। বলছিলেন, রাজনীতিতে ধর্মকে টেনে আনা ভালো লাগছে না। তার বদলে কর্মসংস্থান, উন্নত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, শিক্ষার মান বৃদ্ধি হওয়া প্রয়োজন।
মানুষের নানা চাওয়া-পাওয়া নিয়ে এবার পুরশুড়ায় মুখোমুখি হচ্ছে তৃণমূল ও বিজেপি। বিজেপির ‘হেভিওয়েট’ বিমান ঘোষের বিরুদ্ধে এবার ‘ভূমিপুত্র’ পার্থ হাজারিকে ময়দানে নামিয়েছে তৃণমূল। যা এবারের ভোটে অন্যতম ফ্যাক্টর হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কোনো শিবিরই লড়াইকে এবার হালকাভাবে নিতে চাইছে না। নির্বাচন ঘোষণার পর প্রচারে জোর দিয়েছেন দুই প্রার্থীই। গ্রামের অলিগলি ঘুরে চলছে জোরদার প্রচার। পুরশুড়ার বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল প্রার্থীর পোস্টার, ব্যানারে লেখা রয়েছে ভূমিপুত্রকে জয়ী করুন।
তৃণমূল প্রার্থী বলছেন, পুরশুড়া বিধানসভায় দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছি। আচমকা প্রার্থী হইনি। লড়াই করে উঠে এসেছি। প্রতিটি এলাকার মানুষকে চিনি। আর এখানকার বিজেপি প্রার্থী বহিরাগত। তিনি আরামবাগ শহরে থাকেন। ফলে মানুষ তাঁকে চেনেন না। তাই এবার পুরশুড়ার মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নিজেদের ঘরের ছেলেকেই আশীর্বাদ করবেন।
পাল্টা বিদায়ী বিধায়ক তথা বিজেপি প্রার্থী বিমান ঘোষ বলেন, পুরশুড়ায় আমার বাড়ি না হলেও সেখানে দিন রাত কাটাই। মানুষ নানা প্রয়োজনে দেখা করে। ফলে এখানে ভূমিপুত্র আবেগ কোনো কাজে আসবে না। আমি ভারতবাসী। ফলে আমিও ভূমিপুত্র। তৃণমূলের কাছে কোনো ইস্যু নেই। মানুষ বিধায়কের কাছ থেকে কাজ বুঝে নেন। বিগত পাঁচ বছর উন্নয়ন ও জন সংযোগ দুইই আছে আমার পকেটে। ফলে গতবারের তুলনায় জেতার মার্জিন আরও বাড়বে।
উল্লেখ্য, দামোদর ও মুণ্ডেশ্বরী এই দুই নদী দিয়ে ঘেরা আরামবাগ মহকুমার পুরশুড়া বিধানসভা। মূলত কৃষি প্রধান এলাকা। ফসলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে দাবি রয়েছে চাষিদের। এছাড়া রাস্তা, সেতু, জল নিয়েও চাওয়া পাওয়া রয়েছে সেখানকার বাসিন্দাদের।
এক সময়ের বাম দুর্গ ছিল এই বিধানসভা কেন্দ্র। কিন্তু, রাজ্যে পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে পুরশুড়া দখল করে তৃণমূল। তবে ২০২১ এর নির্বাচনে পুরশুড়ার রাজনীতিতে মোড় ঘুরে যায়। গোঘাটের বাসিন্দা বিমান ঘোষ ওই আসনে জয়লাভ করেন। ২৫ হাজার ৮৪২ ভোটে জেতে গেরুয়া শিবির। লোকসভা নির্বাচনের নিরিখেও ২২ হাজার ৮৯২ ভোটে এগিয়ে রয়েছে পদ্মপার্টি। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বামেদের ভোট রামে যাওয়ার ফলেই বিজেপির মার্জিন বেড়েছে।
এবার বামেদের ভোট ফেরানোর ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জ সিপিএমের শিক্ষক প্রার্থী সন্দীপ কুমার সামন্তের। তবে লড়াইয়ের ময়দানে বিমানবাবুর লম্বা মার্জিনকে নিজেদের ঝুলিতে আনতে তৃণমূলের তাস ভূমিপুত্র প্রার্থী। দুই দলই কয়েকশো মিটারের তফাতে তৈরি করেছে নির্বাচনি কার্যালয়। মাঝে মধ্যেই ভেসে আসছে জয় শ্রীরাম ও জয় বাংলা স্লোগান। যা ভোটের উত্তাপকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে তুলছে।