


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: পরের পর ভোটে বাঁকুড়া বিধানসভার গ্রামীণ এলাকায় জয়ের পতাকা উড়লেও শহরে তৃণমূলের অশ্বমেধের ঘোড়া মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিপক্ষ বিজেপি তৃণমূলের ভোটে সিঁদ কেটে জয় হাসিল করেছে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পূর্বের ফলাফলের পুনরাবৃত্তি আটকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ঘাসফুল শিবির। ফলে বাঁকুড়া শহরের জন্য আলাদা রণকৌশল স্থির করে পদ্ম শিবিরকে রুখতে চাইছে তৃণমূল। শহরে বুথ এবং ওয়ার্ডস্তরে আলাদা আলদাভাবে নেতানেত্রীদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। জেলার তৃণমূল নেতারা সামগ্রিকভাবে তাঁদের কাজকর্মে নজরদারি চালাচ্ছেন। কেউ ফাঁকি দিচ্ছে কি না, তা দেখা হচ্ছে। গোপনে কেউ সাবোতাজের ছক কষছে কি না, সেব্যাপারেও তৃণমূল নেতৃত্ব নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছে।
বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, এবার শহরে লিড পেতে আমরা ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছি। নিবিড়ভাবে সবকিছু করা হচ্ছে। প্রতিটি বাড়িতে একাধিকবার যাওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের বলা হচ্ছে। ওয়ার্ড ও বুথ স্তরে নেতারা কর্মীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এবার শহরের দখল আমরাই নেব। বাঁকুড়া শহরেও দলের চিকিৎসক প্রার্থী অনুপ মণ্ডল ভালো ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থাকবেন।
বাঁকুড়ার বিজেপি প্রার্থী নীলাদ্রিশেখর দানা বলেন, শহরে এবারও আমরা লিড পাব। শহরবাসী পদ্মফুলে ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ভোটের ফল প্রকাশ হলেই তৃণমূল তা টের পাবে।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া শহরে শাসক দল ২৩ হাজার ৭৪৯ ভোটে পিছিয়ে ছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শহরে বিজেপি ২ হাজার ৭৭২ ভোটে লিড পায়। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে শহরে বিজেপি ১৩ হাজার ৭৭৮ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে যায়। অথচ এর মাঝে অনুষ্ঠিত পুরভোটে তৃণমূল ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে শহরে জয় পেয়েছে। বড় নির্বাচনগুলিতে যেসব ওয়ার্ডে তৃণমূল পিছিয়ে ছিল, সেগুলির মধ্যে সিংহাভাগই শাসক দলের দখলে রয়েছে। তৃণমূলের কাউন্সিলার থাকা সত্ত্বেও কেন ওইসব ওয়ার্ডে শাসক দলের প্রার্থীরা পিছিয়ে ছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বাঁকুড়া শহর নেতৃত্বকেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। যদিও তাঁরা এব্যাপারে দলের কাছে কোনো সদর্থক উত্তর দিতে পারেননি। অতীতে দলীয় স্তরের বৈঠকে বারবার শহরে লিড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও নেতারা দলকে আশাহত করেছেন। তবে এবার জেলার নেতারা আর শহর নেতৃত্বের উপর পুরোপুরি ভরসা করতে পারছেন না। ফলে তাঁরা নিজেদের মতো করে ঘুঁটি সাজানোর কাজ শুরু করেছেন।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওয়ার্ড স্তরে কাউন্সিলাররা নিজেদের মতো করে দলীয় প্রার্থীর হয়ে প্রচার করছেন। একটি ওয়ার্ডে একাধিক বুথ রয়েছে। ফলে কাউন্সিলারদের পক্ষে সব বুথে সমানভাবে প্রচার চালানো মুশকিল। সেই কারণে বুথ স্তরে কয়েকজনকে আলাদা ভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের হয়ে তাঁরা বাড়ি বাড়ি প্রচারে যাচ্ছেন। পাশাপাশি ওয়ার্ডে তৃণমূলের ঝান্ডা লাগানো, লিফলেট বিলি সহ অন্যান্য কাজ চালাচ্ছেন। ওয়ার্ডের বাছাই করা যুব কর্মীদের নিয়ে তাঁরা প্রচারে ঝাঁপিয়েছেন। মহিলা ব্রিগেড আলাদাভাবে প্রচার শুরু করেছে। মহিলারা মূলত বাড়ি বাড়ি প্রচারের উপর জোর দিয়েছে।