Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

সংসদের দুই কক্ষে বিজেপিকে চেপে ধরতে প্রশ্নবাণ তৃণমূলের

সংসদে প্রশ্ন করলেই কণ্ঠরোধ! এমনই অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার লোকসভায় সরব হল তৃণমূল। অন্যদিকে, সাধারণ বাজেটের উপর আলোচনা থেকে বাজেটের জবাব নিয়ে রাজ্যসভায় বিজেপির সঙ্গে দফায় দফায় বাগযুদ্ধে জড়াল ঘাসফুল শিবির।

সংসদের দুই কক্ষে বিজেপিকে  চেপে ধরতে প্রশ্নবাণ তৃণমূলের
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সংসদে প্রশ্ন করলেই কণ্ঠরোধ! এমনই অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার লোকসভায় সরব হল তৃণমূল। অন্যদিকে, সাধারণ বাজেটের উপর আলোচনা থেকে বাজেটের জবাব নিয়ে রাজ্যসভায় বিজেপির সঙ্গে দফায় দফায় বাগযুদ্ধে জড়াল ঘাসফুল শিবির। পালটা রাজ্যের বকেয়া ইস্যুতে তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বিজেপি। যার প্রতিবাদে সোচ্চার হন রাজ্যের শাসক দলের সাংসদরা।

Advertisement

এদিন রাজ্যসভায় বাজেট আলোচনা শেষে জবাবি ভাষণে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী কটাক্ষ করেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার বারবার বকেয়ার দাবি তুলছে। ওদের হয়তো টাকা চাওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু ওরা মনে করছে যে, ওদের টাকার হিসাব দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এপ্রসঙ্গে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাংলায় বাস্তবায়ন না করার অভিযোগও করেন নির্মলা। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর এহেন মন্তব্যে তেড়েফুঁড়ে ওঠেন রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদরা। দোলা সেন সহ একাধিক এমপি বলেন, এবিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কেন মানা হচ্ছে না? বকেয়ার প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেন রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যও। যা নিয়ে একপ্রস্থ বিতণ্ডা হয়। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন অবশ্য কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ছাড়া অন্য কারও মন্তব্য সভার কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত না করার নির্দেশ দেন। 
এদিনের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে মোদি সরকারের কড়া সমালোচনা করেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে রেলের বাজেট বরাদ্দ ২৯ গুণ বা আরও বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু বাংলার জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র তিন গুণ। অন্যদিকে, এদিন বাজেট রিপ্লাইয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেন, দেশে মূল্যবৃদ্ধি ঐতিহাসিকভাবে কমে গিয়েছে। ভারতে এখনও সেভাবে কোনো মূল্যবৃদ্ধি নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের যাবতীয় পদক্ষেপের কারণেই তা সম্ভব হয়েছে। দেশব্যাপী বেকারত্বের হার কমেছে। এসংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচি এবং প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দও হয়েছে।
রাজ্যসভার পাশপাশি লোকসভাতেও এদিন শাসক শিবিরকে নিশানা করে তৃণমূল। রেলের টিকিট বাতিল করার জন্য ‘ক্যানসেলেশনস ফি’ বাবদ সরকার কত টাকা উপার্জন করেছে? লিখিতভাবে তা সরকারের কাছে জানতে চেয়েছিলেন তৃণমূলের মালা রায়। অথচ উত্তর দেওয়া তো দূর, প্রশ্নের এই অংশটিই সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। এর পরেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।
পেট্রল-ডিজেলের ব্যবহার কমাতে মোদি সরকার যেভাবে ইলেকট্রিক ভেহিকলের প্রচার করে বিক্রি বাড়াতে চাইছে, তাতে আদৌ কোনো সুরাহা হয়েছে কি না, জানতে চেয়েছিলেন তৃণমূলের দীপক অধিকারী। লিখিত জবাবে পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী সুরেশ গোপী জানিয়েছেন, তেমন কোনো সুরাহা হয়নি। সরকারকে প্রশ্নবাণে চেপে ধরতে এদিন তৃণমূলের ১৪ জন সাংসদ বাংলায় প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (শহর) থেকে শুরু করে গ্রামীণ বৈদ্যুতিকরণে দেশের হালের মতো বিভিন্ন ইস্যুতে লিখিতভাবে সরকারের জবাব চান। সব মিলিয়ে সংসদের দুই কক্ষেই বিজেপিকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে দেন তৃণমূল সাংসদরা।  বক্তব্য রাখছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। বৃহস্পতিবার পিটিআইয়ের তোলা ছবি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ