Bartaman Logo
২৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তৃণমূলের ‘দখল’ করা কার্যালয় পুনরুদ্ধার সিপিএমের, শক্তিবৃদ্ধির রহস্য ঘিরে জল্পনা

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষিপ্তভাবে সিপিএম কর্মী-সমর্থকদের উপর আক্রমণের খবর আসছে।

তৃণমূলের ‘দখল’ করা কার্যালয় পুনরুদ্ধার  সিপিএমের, শক্তিবৃদ্ধির রহস্য ঘিরে জল্পনা
  • ৭ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষিপ্তভাবে সিপিএম কর্মী-সমর্থকদের উপর আক্রমণের খবর আসছে। যদিও তুলনায় বেশি দখল হচ্ছে তৃণমূলের পার্টি অফিস। এরই মাঝে অন্য ছবি। তৃণমূলের দখল করে নেওয়া কিছু পার্টি অফিস সিপিএম পুনরুদ্ধারও করছে। সিপিএমের নেতাদের বক্তব্য, ‘অফিসগুলি আমাদেরই ছিল। তৃণমূল দখল করে নিয়েছিল। সেগুলি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।’ রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, সিপিএমের হঠাত্ এই শক্তির উৎস কী? বিজেপির ক্ষমতায় আসা। নাকি তৃণমূলের ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়া? এত অক্সিজেন কোন সমীকরণে পাচ্ছে বিধানসভায় সদ্য খাতা খোলা সিপিএম। 

Advertisement

আবার সব জায়গায় পরিস্থিতি যে একই, এমনটা নয়। ফলপ্রকাশের দিন দুপুরে যাদবপুরের লেনিন মূর্তিতে গেরুয়া আবির লাগানো হয়। আবার মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জেও ভাঙা হয় লেনিন মূর্তি। ডোমকলে এক সিপিএম কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। এসবে বিরুদ্ধে শুক্রবার কলকাতায় মিছিলের ডাক দিয়েছে বামফ্রন্ট। একইভাবে বিভিন্ন কলেজে ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের কর্মীরা শ্বেত পতাকা টাঙিয়ে আসছেন। উলুবেড়িয়া কলেজ, গুরুদাস কলেজ, বিজয়গড় কলেজ সহ বিভিন্ন এলাকায় এরকম ছবি দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার বারুইপুর কাছাড়ি বাজারের একটি পার্টি অফিস ‘পুনরুদ্ধার’ করেছে সিপিএম। ১৯৮৩ সালে তৈরি হওয়া ওই অফিসে ১৩ বছর বাদে উড়েছে লাল ঝান্ডা। বারুইপুর পশ্চিমের সিপিএম প্রার্থী লাহেক আলি বলেছেন, ‘আমরা দখলের রাজনীতি করি না। তৃণমূল জোর করে নিয়েছিল। আমরা শুধু ফিরিয়েছি।’ একই চিত্র দেখা গিয়েছে যাদবপুরের সম্মিলনী পার্কের ডি ব্লকের পার্টি অফিসে। সেখানেও লাল ঝান্ডা ওড়ানো হয়েছে। এছাড়াও চোপড়া, বামনগাছি, হাড়োয়া, ক্যানিং সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পার্টি অফিস পুনরুদ্ধারের খবর মিলছে।
রাজনৈতিক মহলের অবশ্য প্রশ্ন, একটি আসন, ডোমকল পেতেই কি এতটা উজ্জীবিত হল সিপিএম? এই শক্তিবৃদ্ধির পিছনে রহস্যটা কি? সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘আসলে তৃণমূল হারতে মানুষ জেগেছে। মানুষ অত্যন্ত বিরক্ত। ঘটনাচক্রে সেই ক্রোধের ভোট বিজেপি পেল। আর আমাদেরটা দখল নয়। আমাদের পার্টি কর্মীরা পুনরুদ্ধার করেছেন। তৃণমূলের কর্মীদের দেখা নেই। তবে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে যে ঘটনাবলী ঘটছে তা একেবারেই কাম্য নয়। আবেদন একটাই, শান্তি বজার রাখা উচিত।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ