Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আবাস পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি গ্রেপ্তার তৃণমূলের নতুনগ্রাম অঞ্চল সভাপতি

আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হল তৃণমূলের নতুনগ্রাম অঞ্চল সভাপতি তথা প্রাক্তন উপপ্রধান। ধৃতের নাম সিরাজুল শেখ। শনিবার দুপুরে নতুনগ্রামের একটি এলাকা থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

আবাস পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি গ্রেপ্তার তৃণমূলের নতুনগ্রাম অঞ্চল সভাপতি
  • ৩১ মে, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, লালবাগ: আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হল তৃণমূলের নতুনগ্রাম অঞ্চল সভাপতি তথা প্রাক্তন উপপ্রধান। ধৃতের নাম সিরাজুল শেখ। শনিবার দুপুরে নতুনগ্রামের একটি এলাকা থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। মুর্শিদাবাদ থানার এক আধিকারিক বলেন, অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ হয়। তার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সিরাজুল ২০১৮-’২৩ সাল পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ ব্লকের তৃণমূল পরিচালিত নতুনগ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ছিলেন। বর্তমানে তিনি তৃণমূলের নতুনগ্রাম অঞ্চল সভাপতি পদে রয়েছেন। অভিযোগ, উপপ্রধান থাকাকালীন আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে নতুনগ্রামের কয়েকজনের কাছ থেকে প্রায় তিন লক্ষ টাকা তিনি কাটমানি নিয়েছেন। টাকা দিলেও কেউ ঘর পাননি। আবার টাকাও ফেরত পাননি। নতুন গ্রামের বাসিন্দা বাবলু মণ্ডল দাবি করেছেন, তিনি ঘরের জন্য পাঁচ বছর আগে উপপ্রধানকে ত্রিশ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু, ঘর পাননি, এমনকি টাকাও ফেরত দেয়নি। 
বাবলুবাবু বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে অঞ্চল সভাপতির সঙ্গে দেখা হয়। টাকা ফেরত চাইতেই গালিগালাজ করেন। প্রতিবাদ করতেই মারতে উদ্যত হন। তখন ওই স্থানে উপস্থিত গ্রামবাসীরা ছুটে এলে বেগতিক বুঝে পালিয়ে যান। ওই ঘটনার পরেই কয়েকশো গ্রামবাসী অঞ্চল সভাপতির বাড়ি ঘেরাও করেন। খবর পেয়ে মুর্শিদাবাদ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরবর্তীতে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। আসারুল বলেন, ঘরের জন্য বউয়ের গয়না বন্ধক রেখে পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। তিন বছর কেটে গেলেও ঘর পাইনি। কংগ্রেসের নতুনগ্রাম অঞ্চল সভাপতি সিরাজুল শেখ বলেন, তৃণমূল নেতারা ক্ষমতা অপব্যবহার করেছে। বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ের দেওয়ার নাম করে তোলাবাজি চালিয়েছে। নতুনগ্রামের সকলের টাকা ফিরিয়ে দিতে হবে। তা না হলে কংগ্রেস আন্দোলনে নামবে। 
বিজেপির মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সৌমেন মণ্ডল বলেন, গত ১৫ বছরে তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতারা সাধারণ মানুষের থেকে কাটমানি নিয়েছে, তোলাবাজি করেছে। আগে মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারত না। বর্তমান সরকারের আমলে মানুষের ভয় কেটেছে। তাই তারা দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলছে এবং থানায় অভিযোগ জানাচ্ছে। ওই সমস্ত নেতাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। 
তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ ব্লক সভাপতি মহম্মদ গোলাম আকবরী বলেন, আমি বিষয়টি জানি না। কেউ যদি এরকম করে থাকে তাহলে প্রশাসন আইন মতো ব্যবস্থা নেবে।

সম্পর্কিত সংবাদ