


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া ও সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বাঁকুড়ায় প্রার্থী বাছাইয়ে নতুন মুখের উপর ভরসা রাখল শাসকদল। এদিন দুপুরে তৃণমূলে যোগ দিয়ে বিকেলেই প্রার্থী হলেন চিকিৎসক, ট্রাকমালিক। জঙ্গলমহলে টিকিট পেলেন না মন্ত্রী এবং জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি। তবে টিকিট দেওয়ার ক্ষেত্রে অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি অনেক আসনে প্রবীণ ও পোড়খাওয়া সংগঠকদেরও তৃণমূল গুরুত্ব দিয়েছে। এদিন প্রার্থী ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই জোড়াফুল শিবির প্রচার ও দেওয়াল লিখন শুরু করে।
মঙ্গলবার দুপুরে বাঁকুড়ার বিশিষ্ট চক্ষু চিকিৎসক অনুপ মণ্ডল তৃণমূলে যোগদান করেন। তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে তাঁর হাতে দলের ঝান্ডা তুলে দেন সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী এবং অন্য নেতাকর্মীরা। পরে বাঁকুড়ার প্রার্থী হিসাবে অনুপবাবুর নাম ঘোষিত হয়। জঙ্গলমহলের মধ্যে তালডাংরায় প্রার্থী বদল হয়নি। সেখানে এবারও টিকিট পেয়েছেন ফাল্গুনী সিংহবাবু। রানিবাঁধে রাজ্যের খাদ্য প্রতিমন্ত্রী জ্যোৎস্না মাণ্ডির বদলে তনুশ্রী হাঁসদাকে প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত। রাইপুরে প্রাক্তন সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্মুর জায়গায় ঠাকুরমণি সোরেনকে প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি এর আগে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে জনপ্রতিনিধি ছিলেন। ছাতনা আসনে ব্লক তৃণমূল সভাপতি স্বপনকুমার মণ্ডল প্রার্থী হয়েছেন। শালতোড়ায় উত্তম বাউরি তৃণমূলের টিকিটে লড়বেন।
অরূপবাবু বলেন, জেলার কয়েকটি আসনে মানুষ এবার নতুন মুখ চাইছিলেন। দল সেখানে নবাগতদের প্রার্থী করেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন করে আসা নেতারাও টিকিট পেয়েছেন। বাঁকুড়ার প্রার্থী অনুপবাবু বলেন, আমি বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে তৃণমূলের সঙ্গেই ছিলাম। এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দিয়েছি। ভোটে জয়লাভ করলে বাঁকুড়ার শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতিতে কাজ করব। বিদায়ী মন্ত্রী জ্যোৎস্না মাণ্ডি ফোন ধরেননি। মৃত্যুঞ্জয়বাবুকেও ফোনে পাওয়া যায়নি।
প্রত্যাশামতোই বিষ্ণুপুর ও কোতুলপুরে দুই বিদায়ী বিধায়ককেই তৃণমূল ফের প্রার্থী করেছে। বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষ ও কোতুলপুরের বিধায়ক হরকালী প্রতিহার দু’জনই গত বিধানসভা ভোটে বিজেপির টিকিটে জিতেছিলেন। পরে তাঁরা শাসকদলে যোগ দেন। দল এবার তাঁদের উপরই আস্থা রেখেছে।ইন্দাস ও সোনামুখীতে নতুন মুখ আনা হয়েছে। ইন্দাসে শ্যামলী রায় বাগদি ও সোনামুখীতে প্রবীণ চিকিৎসক কল্লোল সাহা প্রার্থী হয়েছেন। শ্যামলীদেবীর পঞ্চায়েত সমিতির নির্বাচনে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কল্লোলবাবু এর আগে একবার কংগ্রেসের টিকিটে সোনামুখীতে বিধানসভা ভোটে লড়েছিলেন।
বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার ওন্দা কেন্দ্রে ঘাসফুল প্রার্থী হয়েছেন দলের সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুব্রত দত্ত। মঙ্গলবারই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন দুর্লভপুরের ট্রাকমালিক সংগঠনের নেতা গৌতম মিশ্র ওরফে শ্যাম মিশ্র। দল তাঁকে বড়জোড়া কেন্দ্রে টিকিট দিয়েছে। বড়জোড়ার বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায় টিকিট পাননি।
এদিন তালিকা ঘোষণার পরই তৃণমূল কর্মীরা প্রার্থীদের মালা পরিয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। বিষ্ণুপুরের প্রার্থী তন্ময় ঘোষের বাড়ি ও অফিসে গ্রামগঞ্জ থেকে বহু মানুষ আসেন। সেখানে পথচলতি মানুষকে মিষ্টিমুখ করানো হয়। কোতুলপুরে হরকালী প্রতিহার, ইন্দাসে শ্যামলী রায় বাগদি, সোনামুখীতে কল্লোল সাহা, বড়জোড়ায় গৌতম মিশ্রকে ঘিরে কর্মীসমর্থকদের ভিড় জমে। এদিন সুব্রত দত্ত ওন্দা পৌঁছে প্রথমেই পিচ রাস্তার উপর হাঁটু গেড়ে ওন্দার মাটিকে প্রণাম জানান। তারপর তাঁকে মালা পরিয়ে দলীয় কর্মীসমর্থকরা মিছিল করেন।সুব্রতবাবু বলেন, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমার উপর আস্থা রেখেছেন। তার মর্যাদা রাখব। তন্ময়বাবু বলেন, পাঁচবছর ধরে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশমতো বিষ্ণুপুরের উন্নয়নে চেষ্টা করেছি। তাঁর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। প্রত্যেক প্রার্থীই টিকিট পাওয়ার জন্য দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নিজস্ব চিত্র