Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তৃণমূলের বাজি কৃষকদরদী অরাজনৈতিক প্রার্থী, যোগরঞ্জনের শূন্যতার ফায়দা তুলতে মরিয়া আইএসএফ

মোট চারবারের বিধায়ক তিনি। তার মধ্যে টানা জিতেছেন ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত। এবার তৃণমূল তাঁকে টিকিট দেয়নি।

তৃণমূলের বাজি কৃষকদরদী অরাজনৈতিক প্রার্থী, যোগরঞ্জনের শূন্যতার ফায়দা তুলতে মরিয়া আইএসএফ
  • ৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মোট চারবারের বিধায়ক তিনি। তার মধ্যে টানা জিতেছেন ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত। এবার তৃণমূল তাঁকে টিকিট দেয়নি। ভোটের ময়দানে সেই যোগরঞ্জন হালদারের সরাসরি না থাকাকে নিজেদের অ্যাডভান্টেজ হিসাবেই দেখছে আইএসএফ। তাঁর শূন্যতাকে কাজে লাগাতে মরিয়া ভাইজানের দল। রাজ্যের সিংহভাগ আসনে তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে মূল টক্কর হলেও কুলপিতে গেরুয়া পার্টিকে পিছনে রাখছে আইএসএফ শিবির। কারণ এই কেন্দ্রে প্রথম থেকেই বিজেপি প্রার্থী অবনী নস্করকে নিয়ে চরম ক্ষোভ, দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে দলের অন্দরে। তাছাড়া নীচুতলার কর্মীদের অসন্তোষের জেরে প্রচারেও তাঁদের সেভাবে দেখা যাচ্ছে না বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। তবে তৃণমূল এবার কোনো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে টিকিট না দিয়ে প্রার্থী করেছে এক কৃষক রমণীকে। তাঁকে সামনে রেখেই বাজিমাত করতে চাইছে ঘাসফুল শিবির।

Advertisement

এবার এই কেন্দ্রে তিন প্রধান দলের প্রার্থীই নতুন। কারওরই আগে ভোটে লড়ার অভিজ্ঞতা নেই। সব দলই ভাবছে, নয়া মুখকে সামনে রেখেই ভোট বৈতরণী পার করবে। কিন্তু কার ভাগ্য খুলবে, আর কার পুড়বে, তা এক মাস বাদেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। দীর্ঘদিন বিধায়ক থাকার সুবাদে এলাকায় পরিচিতি ও জনসংযোগের কারণে এখনও অনেকের মুখেই ঘুরছে বর্তমান বিধায়কের নাম। অনেকেই ভেবেছিলেন, এবারও হয়তো ঘাসফুল শিবির প্রার্থী করবে তাঁকে। তা না হওয়ায় অবাক হয়েছেন বহু মানুষ। তবে তৃণমূল অবশ্য যোগরঞ্জনবাবুকে একেবারে উপেক্ষা করে ভোটে নামার সাহস দেখায়নি। সে কথা স্পষ্ট তৃণমূল প্রার্থী বর্ণালী ধাড়ার কথাতেই। তিনি বলেন, দাদার পরামর্শ ও রাজনৈতিক পথ অনুসরণ করেই মানুষের জন্য কাজ করব। যোগরঞ্জনবাবুও তাঁকে সাহায্য করতে প্রস্তুত।
কুলপির বেশ কিছু গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে, যেগুলিতে সংখ্যালঘু মানুষের সংখ্যা বেশি। গত পঞ্চায়েত ভোটে কুলপিতে গ্রামসভার কয়েকটি আসন জিতেছিল আইএসএফ। তারা ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ১৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিল এই কেন্দ্রে। ফলে তাদের যে একটা ভোট ব্যাংক তৈরি হয়েছে, তা পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট। এবার আইএসএফের জেলা সভাপতি আব্দুল মালেক মোল্লাকে প্রার্থী করেছে দল। ভাঙড়ের বাসিন্দা হলেও এখন কুলপিতে মাটি কামড়ে পড়ে আছেন তিনি। যদিও তাঁকে ‘বহিরাগত’ বলে প্রচার করছে শাসকদল। তৃণমূলের সাংগঠনিক জোর বা প্রভাব নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না আব্দুল মালেক মোল্লা। বরং তিনি বর্তমান বিধায়কের অনুপস্থিতিকে কাজে লাগাতে চাইছেন। তিনি বলেন, যোগরঞ্জনবাবুর মতো অভিজ্ঞ মানুষ এবারের ভোটে নেই, এতে নিঃসন্দেহে আমাদের সুবিধা হবে।
এদিকে এখন ঘর সামলাতে ব্যস্ত পদ্ম শিবির। কর্মিসভা বা প্রস্তুতি বৈঠক করছে তারা। কিন্তু রাস্তায় প্রচারে তাদের সেভাবে দেখা যাচ্ছে না, দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। যদিও এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী অবনী নস্কর। তিনি বলেন, আমাদের দ্বন্দ্ব যা ছিল, তা মিটে গিয়েছে। আমরা পানীয় জল, রাস্তা, স্বাস্থ্য প্রভৃতি স্থানীয় ইস্যু নিয়ে 
প্রচার করছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ