সংবাদদাতা, খড়্গপুর: নেতারা দ্বিধাবিভক্ত। তৃণমূলের কর্মীরা দলে দলে যোগ দিচ্ছেন পুরনো দল কংগ্রেসে। বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের শতাধিক তৃণমূল কর্মী হাতে তুলে নেন জাতীয় কংগ্রেসের পতাকা। তাঁদের স্বাগত জানান পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কংগ্রেসের সভাপতি দেবাশিস ঘোষ, প্রদেশের নেতা শম্ভুনাথ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। জেলা সভাপতি দেবাশিস ঘোষ বলেন, ‘ভালোই হচ্ছে। তৃণমূলের নেতাদের মেনে নিতে কষ্ট হতে পারে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের। কিন্তু, কর্মীদের সবসময়ই স্বাগত। তাঁদের গায়ে তো আর দুর্নীতির কালো দাগ নেই।’
তৃণমূলের মুষল পর্বের মধ্যেই ভালো তৃণমূলীদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে কংগ্রেস। গত রবিবার চন্দ্রকোণা রোডের দলীয় কার্যালয়ে যোগদান শিবিরের আয়োজন করেছিল জেলা কংগ্রেস। সেখানে প্রায় ৫০ জন তৃণমূল কর্মী কংগ্রেসে যোগদান করেন। বৃহস্পতিবার জেলা কংগ্রেস ভবনে চন্দ্রকোণা, দাঁতন ও মেদিনীপুরের (শহর ও গ্রামীণের) শতাধিক তৃণমূল কর্মী কংগ্রেসে যোগদান করেন। যোগদানকারীদের তরফে বিশ্বনাথ হালদার বলেন, ‘পুরনো দলে ফিরতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’ মতাদর্শগত মিল থাকলেও তৃণমূলের কোনো বড় নেতাকে এখনও কংগ্রেসের পথে পা বাড়াতে দেখা যায়নি। বরং, আদর্শের বিস্তর ফারাক থাকলেও তাঁদের মন মজে বিজেপিতেই!
এদিকে, বিজেপির দরজা আবার বন্ধ। বাধ্য হয়েই তাঁরা যোগাযোগ করা শুরু করেছেন বিজেপির সংস্পর্শে থাকা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের নতুন তৃণমূলের সঙ্গে। বুধবার ওই দলে নাম লিখিয়েছেন খড়্গপুরের প্রাক্তন বিধায়ক প্রদীপ সরকার। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের বেশ কয়েকজন কর্মাধ্যক্ষও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। তবে, পঞ্চায়েত, পুরসভা, জেলা পরিষদের অনেক জনপ্রতিনিধিই অবশ্য বিজেপির দরজা খোলার অপেক্ষায় আছেন। আপাতত তাঁরা বিজেপি বিধায়ক বা জনপ্রতিনিধিদের গোপন-সমর্থন নিয়েই পঞ্চায়েত বা পুরসভা চালাচ্ছেন। সেই তালিকায় মেদিনীপুর ও খড়্গপুর পুরসভাও আছে। তবে কি কেউই এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল’ তৃণমূলের সঙ্গে থাকতে চাইছেন না? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক তৃণমূল কর্মী বলেন, ‘এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই, আমাদের দলের বেশিরভাগ নেতাই তো কোনো না কোনো দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁরাই ডিম খাওয়ার ভয়ে কিংবা জেলে যাওয়ার আতঙ্কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ত্যাগ করছেন।’
তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত ওই নেতাদের নিয়ে অবশ্য আপত্তি রয়েছে কংগ্রেসেরও। দলের জেলা সভাপতি দেবাশিস ঘোষ বলেন, ‘ওঁদের দুর্নীতির ভাগ আমরা নিতে রাজি নই। সেজন্যই আমরা নয় সদস্যের স্ক্রিনিং কমিটি গড়েছি। একটু যাচাই করেই দলে নেওয়া হবে।’ জেলা কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি অনিল শিকারিয়া বলেন, ‘তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত এই নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা এখন কংগ্রেসে আসার চেষ্টাও করবে না। কারণ, ওরা তো ক্ষমতার লোভ আর টাকা-পয়সা ছাড়া থাকতেই পারবে না। স্বাভাবিকভাবেই কংগ্রেসে সেই সুযোগ নেই। সেজন্যই মতের মিল না হলেও, শাসকদল বিজেপির স্নেহধন্য হয়েই থাকার চেষ্টা করছে ওরা।’ তৃণমূলের কর্মীদের নিয়ে যে বামেদেরও আপত্তি নেই, তা স্পষ্ট করেছে নেতৃত্ব। সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য তথা খড়্গপুর শহর পশ্চিম এরিয়া কমিটির সম্পাদক মধুসূদন রায় বলেন, ‘আমাদের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য সবসময়ই খোলা। যেকোনো দলের কর্মীরাই খেটেখাওয়া সাধারণ মানুষের মধ্যেই পড়েন।’