শুভজিৎ অধিকারী, ভগবানপুর: এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি—নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
শুভজিৎ অধিকারী, ভগবানপুর: এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি—নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
সুকান্ত ভট্টাচার্যের এই ‘অঙ্গীকার’কে জীবনের মূলমন্ত্র করে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন দুর্গাপদ ভট্টাচার্য। ভগবানপুর-২ ব্লকের উদবাদাল গ্রামে বাড়ি। বয়স এখন ৮৬ বছর। জাতীয় পুরস্কার পাওয়া অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দুর্গাপদবাবু দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় জৈব কৃষি নিয়ে আন্দোলন করছেন। রাসায়নিক সার, কড়া কীটনাশক প্রয়োগের বিরুদ্ধে সরব তিনি। গড়ে তুলেছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা ফার্মার্স অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। মাঠে ঘুরে ঘুরে কৃষকদের সচেতনতার বার্তা দিচ্ছেন দুর্গাপদবাবু সহ সংগঠনের সদস্যরা। বর্তমান প্রজন্মকে বিষমুক্ত সবজি খাওয়ানোর শপথ নিয়েই সংগঠনটির গোড়াপত্তন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সদস্যদের মধ্যে একটা বড় অংশই প্রবীণ শিক্ষাবিদ। সম্প্রতি, সংগঠনের রজতজয়ন্তী বর্ষ পালিত হল ভূপতিনগরের উদবাদালে। সেখানে উপস্থিত থেকে দুর্গাপদবাবুদের এই প্রয়াসের ভূয়সী প্রশংসা করেন ভগবানপুর-২ ব্লকের এডিএ ডঃ পীযূষকান্তি দাস, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক তথা আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের গবেষক ডঃ সুবলচন্দ্র মাইতি।জৈব চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তাঁরা। সুবলবাবুর মতে, জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত ফসলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে বিদেশে জৈব শাক-সবজির চাহিদা বেশ ভালো। রপ্তানির সুযোগও রয়েছে।
অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকব্যবহারে নানা সমস্যার কথা উঠে আসে ওই সভায়।মাটির উর্বরতা শক্তির অবক্ষয় থেকে জনস্বাস্থ্যের সমস্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন সকলেই। একমাত্র জৈব কৃষি পদ্ধতি সমাধানের পথ দেখাতে পারে বলে তুলে ধরেন সফল কৃষক সঞ্জয় ভুঁইয়া, অরুণ শাসমল, গৌতম প্রধান, জয়দেব নন্দরা। জৈব পদার্থের মাধ্যমে জৈবচাষমাটির পুনর্গঠন ও অণুজীবের কার্যকলাপকে উন্নত করে। মাটির জৈব কার্বন ও হিউমাসের বৃদ্ধি ঘটায়, আর্দ্রতার ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বাড়ায়। এভাবে সুস্থ মাটি তৈরি হলে তার থেকে স্বাস্থ্যকর ধান, ফল, শাক-সবজি উৎপাদন হবে। যা জনস্বাস্থ্যের সার্বিক উন্নতির পক্ষে সহায়ক। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এমন টেকসই চাষাবাদ নিশ্চিত করতে কৃষকদের আহ্বান জানান দুর্গাপদবাবু। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে অত্যধিক রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার হচ্ছে কৃষিক্ষেত্রে। তার থেকে উৎপাদিত ফসল খেয়ে আমাদের স্বাস্থ্যের নানা সমস্যা দেখা যাচ্ছে। আগামী প্রজন্মকে এইসব বিষযুক্ত খাবার থেকে দূরে রাখতে হলে জৈব চাষে জোর দিতে হবে।’ সেক্ষেত্রে কেঁচোসার (ভার্মিকম্পোস্ট), সবুজ সার, বীজামৃতের মতো তরল জৈব সার কৃষিক্ষেত্রে প্রয়োগ করার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে জৈব চাষে উৎসাহ দিতে সরকারকে এগিয়ে আসার আবেদন জানান দুর্গাপদবাবু। এদিন সংগঠনের তরফে ‘মহীলতা’ নামে একটি কৃষিপত্রিকা প্রকাশ করেন গৌরহরি আচার্য। পত্রিকাটিতে জৈব চাষের বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।