Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কান্দিতে বেলা বাড়তেই উধাও তৃণমূল কর্মীদের উচ্ছ্বাস

সাত সকালেই কান্দি শহরের গণনা কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় কার্যত শাসক দলের নেতা-কর্মীদের তিল ধারণের জায়গা ছিল না

কান্দিতে বেলা বাড়তেই উধাও তৃণমূল কর্মীদের উচ্ছ্বাস
  • ৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: সাত সকালেই কান্দি শহরের গণনা কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় কার্যত শাসক দলের নেতা-কর্মীদের তিল ধারণের জায়গা ছিল না। তবে, বেলা বাড়তেই বাংলার ভোটের ফলাফলের ট্রেন্ড সামনে আসে। শাসক দলের কর্মীদের উচ্ছ্বাস কার্যত উধাও হয়ে যায়। এমনকি, শহরের দোকানপাটও বন্ধ হয়ে যায়। দুপুরের পর শহরে কার্যত নিঃস্তব্ধতা দেখা গেল।

Advertisement

কারণটা অবশ্যই ছিল কান্দির তিনবারের বিধায়ক অপূর্ব সরকারের পরাজয়। সাত সকালে অপূর্ব সরকারের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কর্মীরাও উচ্ছ্বাসের সঙ্গে যেভাবে গণনা সংলগ্ন এলাকায় অপেক্ষায় ছিলেন, বেলা ১২টা বাজতে তাঁরাও উধাও হয়ে যান। কারণটা ছিল অপূর্ববাবুর পিছিয়ে পড়া। ঝালমুড়ি থেকে ফলের দোকান সহ হোটেলও বন্ধ হয়ে যায়। তবে, সেটা কী কারণে বলা কঠিন। যদিও হোটেল মালিক শ্যামসুন্দর দাস বলেন, অন্য কোনো কারণ নয়। আসলে খাবার আর নেই। তাই আমার মতো অনেকেই দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে গিয়েছেন।
এদিন কান্দি বিধানসভার সঙ্গে খড়গ্রাম, বড়ঞা, ভরতপুর বিধানসভার এলাকার শাসক ও বিরোধী দলের বহু কর্মী-সমর্থক গণনা কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় এসেছিলেন। গণনা কেন্দ্রের দক্ষিণে ভরতপুর বিধানসভা এলাকার লোকজন যেমন ছিলেন, তেমনি, ওই কেন্দ্রের পশ্চিমের কান্দি মহকুমা হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় হাজির ছিলেন বিজেপি, সিপিএম ও মিমের কর্মী-সমর্থকরাও।
এদিকে দুপুরের পর কান্দির চার কেন্দ্রের ফলাফল কার্যত স্পষ্ট হয়ে যায়। চার কেন্দ্রের মধ্যে ভরতপুর বাদে বাকি কেন্দ্রগুলিতে পদ্ম ফোটার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়। দুপুরের পর থেকেই কান্দি মহকুমা হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় মিম কর্মী-সমর্থকদের উল্লাস করতে দেখা গিয়েছে। মিম কর্মী সারোয়ার আলি বলেন, আমরা জিততে পারিনি ঠিকই। তবে, আমাদের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমরা যাঁকে হারাতে চাইছিলাম, তিনি হেরেছেন। আবার দুপুরের পর থেকেই কান্দি পুরসভার সামনে বিজেপি কর্মীদেরও উচ্ছ্বাস চোখে পড়ে। সেখানে গেরুয়া আবির খেলতে থাকেন দলীয় কর্মী-সমর্থকরা। বিজেপি কর্মী সনাতন ঘোষ বলেন, গোটা রাজ্যের সঙ্গে কান্দিতেও পরিবর্তন হয়েছে। সেই উল্লাস চাপা থাকতে পারে না।
তবে, দুপুরের কিছুক্ষণের বৃষ্টি গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি দেয়। বৃষ্টির দোহাই দিয়ে শাসকদলের কর্মীদের বাড়িমুখো হতে দেখা যায়। বিকাল ৪টে নাগাদ শুধুমাত্র ভরতপুর কেন্দ্রের শাসকদলের কর্মী-সমর্থক ছাড়া বাকি তিন কেন্দ্রের কর্মী-সমর্থকদের দেখা মেলেনি। বিকেলের পর কিছু সংখ্যায় বিজেপি কর্মীরা জয়ের আনন্দে চরম উন্মাদনায় মেতে উঠেন। তবে, কান্দি শহরের রাস্তাঘাট ছিল শুনশান।

সম্পর্কিত সংবাদ