


রাহুল চক্রবর্তী, মহেশতলা; কী হবে এবারের ভোটে? কত পাবে তৃণমূল? ভোটের বাংলায় এসব প্রশ্নের মুখোমুখি হননি, এমন নাগরিক খুঁজে পাওয়া কঠিন! প্রথম দফার ভোটের পর তৃণমূল জানিয়েছিল, তারা ১০০ আসন পার করে গিয়েছে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, দ্বিতীয় দফায় তৃণমূল ২০০ আসন টপকে যাবে। আর নির্বাচনি প্রচারের শেষ লগ্নে এসে অভিষেক স্পষ্ট করে দিলেন, ‘২৩০ আসন নিয়ে ফের সরকার গড়বে তৃণমূলই।’
কোন অঙ্কে এই আসন পাওয়ার দাবি করছেন তৃণমূল সেনাপতি? এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে গত ২৪ মার্চ থেকে রাজ্যজুড়ে ভোট প্রচারের ইতিবৃত্ত টেনে আনেন অভিষেক। বলেন, ‘এতদিন ধরে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে তৃণমূলের প্রতি মানুষের যে স্বতঃস্ফূর্ত উন্মাদনা দেখেছি, যেভাবে তাঁরা আশীর্বাদ করেছেন, তাতে আমার স্থির বিশ্বাস, মানুষ এবার তাদের সব সমর্থন উজাড় করে দেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।’
লড়াইটা শুরু হয়েছিল গত বছরের ৪ নভেম্বর। এসআইআরের জন্য ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি শুরু হয়েছিল সেদিন। ওই দিনই কলকাতার রাজপথে প্রতিবাদ মিছিল করেছিলেন মমতা-অভিষেক। বার্তা ছিল স্পষ্ট—অপরিকল্পিত এসআইআর আসলে নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বিজেপির চক্রান্ত। এরপর দিন যত এগিয়েছে, তৃণমূলের আশঙ্কা ক্রমশ বাস্তবে পরিণত হয়েছে। ৮৫ বছরের বেশি বয়সের বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকেও লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেকে বৈধ ভোটার প্রমাণ করতে বাধ্য করা হয়েছে। স্যালাইনের বোতল ঝুলিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে চেপে এসে শুনানিতে হাজির হয়েছেন—রয়েছে এমন উদাহরণও। বাংলার মানুষকে এহেন দুর্ভোগের মধ্যে ফেলার পিছনে বিজেপির ‘অভিসন্ধি’ সবার সামনে তুলে ধরেছেন মমতা-অভিষেক। টানা দেড় মাসের প্রচারপর্বে তাঁরা তথ্যপ্রমাণ সহ সোচ্চার হয়েছেন কেন্দ্র তথা বিজেপির বিরুদ্ধে। আর তা বুঝতে পেরেই তৃণমূলের প্রতি বাংলার মানুষের সমর্থন ক্রমাগত বেড়েছে বলে দাবি তৃণমূলের। মানুষের এই সমর্থন ও আশীর্বাদকে পুঁজি করেই সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের শেষ মুহূর্তে অভিষেকের প্রত্যয়ী ঘোষণা, ‘তৃণমূল আছে, তৃণমূলই থাকবে। ৪ মে-র পর বিজেপি টাটা বাই-বাই। ওই দিনেই বিজেপির রিটার্ন টিকিট পাকা।’
বিধানসভা নির্বাচনে জয় নিয়ে নিশ্চিন্ত হলেও নতুন লড়াইয়ের বার্তা দিতে ভোলেননি অভিষেক। খোলা মঞ্চ থেকে তিনি বলে দিয়েছেন, ‘এই নির্বাচনের দিকে গোটা দেশ তাকিয়ে আছে। বাংলা থেকেই আবার দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হবে। আগামী দিনে বাংলা দেশকে পথ দেখাবে। ২৯ সালের মধ্যে বিজেপিকে উপড়ে ফেলব।’ রাজ্যে ভোট প্রচারে এসে মোদি-শাহরা বারবার অনুপ্রবেশ অস্ত্রে শান দিয়েছেন। বাংলা ভাষায় কথা বললে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে বিজেপি কুৎসিত আক্রমণ করেছে বলেও অভিযোগ। প্রচারের শেষ দিনে এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়েননি অভিষেক। তাঁর প্রশ্ন, ‘২০ মাস ধরে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছেন মোদি। হাসিনা কি অনুপ্রবেশকারী নাকি শরণার্থী? শেখ হাসিনার পাসপোর্ট-ভিসা কোথায় নরেন্দ্র মোদি?’ অভিষেক যখন এই প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছেন, মহেশতলায় অভিষেকের প্রচার তখন ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত। জনপ্লাবনেই ভেসে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ্য উত্তরসূরি।