Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অ্যাডমিট কার্ড চেকিংয়ে তৃণমূলের ছাত্র নেতারা, উত্তেজনা কেশপুর কলেজে

মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম: ২০১৬সালের পর ন’বছর বাদে রবিবার দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে নির্বিঘ্নেই নবম ও দশমের এসএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন হল।

অ্যাডমিট কার্ড চেকিংয়ে তৃণমূলের ছাত্র নেতারা, উত্তেজনা কেশপুর কলেজে
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক, মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম: ২০১৬সালের পর ন’বছর বাদে রবিবার দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে নির্বিঘ্নেই নবম ও দশমের এসএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন হল। এদিন পরীক্ষা ঘিরে কেশপুরের সুকুমার সেনগুপ্ত মহাবিদ্যালয়ে পরীক্ষা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ছড়াল। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতারা পরীক্ষার্থীদের অ্যাডমিট কার্ড চেকিং করেন। এমনকী, তাঁরা মেটাল ডিটেক্টর নিয়েও চেকিং করেন। ইউনিয়ন নেতাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের কাজকর্ম নিয়ে অতীতে গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। সেইসব দাগিদের এদিন পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে ডিউটিতে দেখা যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি সৈয়দ মাহফিজুর রহমান বলেন, একটি সংস্থার হয়ে তাঁরা কাজ করেছেন। তাঁদের রাজনৈতিক সত্তা থাকতেই পারে। সংস্থার দেওয়া পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে তাঁরা ডিউটি করেছেন।

Advertisement

পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মোট ৩৫টি পরীক্ষাকেন্দ্রে ২১হাজার ২৫৫জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা দেওয়ার কথা। যদিও ৬৬৯জন বাদে সকলে পরীক্ষাকেন্দ্রে হাজির হয়েছেন বলে অফিসার ইনচার্জ(এগজামিনেশন) দেবদুলাল বিশ্বাস জানিয়েছেন। ন’বছর পর পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থীদের অনেকের গলায় হতাশার সুর ছিল। ভগবানপুর-১ ব্লকের বিভীষণপুরের পরিযায়ী শ্রমিক সোমনাথ দোলাই কাঁথির পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, দেড় বছর মুম্বইয়ে রেস্তরাঁয় কাজে গিয়েছি। পরীক্ষার জন্য এসেছি। এতবছর পরীক্ষা হয়নি। হতাশ হয়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিই। পরীক্ষা ঘোষণা হতে এসেছি। কী হবে জানি না।
রবিবার তমলুক টাউন স্কুলে পরীক্ষাকেন্দ্রে এসে পাপিয়া বর্মণ বলেন, আশা নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে এসেছি। পরীক্ষা নিয়ে বছরের পর বছর যে টানাপোড়েন হয়েছে তাতে নানা আশঙ্কাও করছি। ওই কেন্দ্রের আর এক পরীক্ষার্থী সুমিতা আদক বলেন, চাকরি হবে বলে আশা করি না। তবুও মনের ভিতর কোথাও একটা ছিঁটেফোঁটা আশা জাগিয়ে এখানে এসেছি। বয়স হয়েছে, সেইসঙ্গে সাংসারিক জীবনেও প্রবেশ করেছি। স্বাভাবিকভাবে প্রস্তুতি সেভাবে করে উঠতে পারিনি। কাঁথির একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে ভাগ্যশ্রী জানা বলেন, ২০১৬সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেয়েছি। আমি যোগ্য শিক্ষিকা হিসেবে এখনও স্কুলে ক্লাস নিচ্ছি। তারপর আবার পরীক্ষা দিতে এলাম। গোটা বিষয়টি প্রহসনের মতো লাগছে। সরকারের গাফিলতি এবং কোর্টের রায়ের জন্য এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
কেশপুরের ঘটনা বাদ দিলে পশ্চিম মেদিনীপুরেও নির্বিঘ্নেই এসএসসির পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সকাল থেকেই জেলার ৩৮টি ভেনুতে ভিড় উপচে পড়ে। জেলায় মোট ২১ হাজার ৯৬০জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯হাজার ৩৭৫জন উপস্থিত ছিলেন। প্রতিটি কেন্দ্রে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ছিল। পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীরা জানান, প্রশ্নপত্র সহজ হয়েছে। তাই পরীক্ষার কাট অব মার্কস অনেকটাই বেশি থাকবে। মেদিনীপুর মহকুমায় ২৫টি, খড়গপুর মহকুমায় আটটি ও ঘাটাল মহকুমায় পাঁচটি ভেনু ছিল। পরীক্ষার জন্য তৈরি স্ট্রংরুম, সেন্টারে প্রবেশপথে সিসি টিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক আন্দোলনের অন্যতম মুখ কৃষ্ণগোপাল চক্রবর্তী বলেন, আইনি লড়াই শেষ হয়নি। পরীক্ষা দিয়েছি। জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি বলেন, নির্বিঘ্নে পরীক্ষা হয়েছে। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
ঝাড়গ্রামেও সুষ্ঠুভাবে এসএসসি পরীক্ষা হয়েছে। জেলার ১০টি কেন্দ্রে মোট ৪১৪৩জন পরীক্ষার্থী ছিলেন। অধিকাংশই পরীক্ষা দিয়েছেন। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৬৩বিএনএসএস জারি ছিল। সশস্ত্র পুলিস মোতায়েন ছিল। অ্যাডমিট কার্ডে সেন্টারের নাম নিয়ে সমস্যা থাকায় নয়াগ্ৰামের বাসিন্দা দেবীকা দাস নামে এক পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেননি। থানা এবং শিক্ষাদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের পরও তিনি পরীক্ষা দিতে পারেননি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ