Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নাম বাদ পড়া ভোটারদের দিয়েই হাবড়ায় জোরদার প্রচারের সিদ্ধান্ত তৃণমূল শিবিরের

শুরু থেকেই এসআইআরের বিরুদ্ধে সোচ্চার তৃণমূল কংগ্রেস। এর মধ্যে হয়েছে ভোট ঘোষণা। রাজ্যের সব আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে জোরকদমে প্রচারে নেমে পড়েছে জোড়াফুল শিবির।

নাম বাদ পড়া ভোটারদের দিয়েই হাবড়ায় জোরদার প্রচারের সিদ্ধান্ত তৃণমূল শিবিরের
  • ২৬ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: শুরু থেকেই এসআইআরের বিরুদ্ধে সোচ্চার তৃণমূল কংগ্রেস। এর মধ্যে হয়েছে ভোট ঘোষণা। রাজ্যের সব আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে জোরকদমে প্রচারে নেমে পড়েছে জোড়াফুল শিবির। সাম্প্রতিক অতীতে তারা এসআইআরের সৌজন্যে ‘মৃত’ একাধিক ভোটারকে মঞ্চে হাঁটিয়ে কমিশনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। ইতিমধ্যে এসআইআরে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের অনেকেই বছরের পর বছর ভোট দিয়ে আসছেন। নির্বাচনের প্রচার পর্বে এসআইআরের ‘শিকার’ এমন ভোটাররাই এবার তৃণমূলের ‘হাতিয়ার’! তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বছরের পর বছর ভোট দেওয়ার পরও যাঁরা এখন ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, তাঁদের ক্ষোভকে রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করতে হবে। এখানে লড়াই কার্যত দ্বিমুখী। তৃণমূলের জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালু। আর বিজেপির দেবদাস মণ্ডল। তবে বিজেপি বলছে, কোনো যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়বে না। অযথা গিমিক তৈরি করছে তৃণমূল।

Advertisement

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্যতম ‘হাইভোল্টেজ’ বিধানসভা কেন্দ্র হাবড়া। এখানে এসআইআরের খসড়া তালিকায় নাম বাদ গিয়েছে ৫৫৮৭ জনের। ‘বিচারাধীন’  ২৮ হাজার ২৬৪ জন। একাধিক বুথে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সেই তালিকা হাতে নিয়েই শুরু হয়েছে তৃণমূলের ‘মাইক্রো-ম্যানেজমেন্ট’। বুথে বুথে গিয়ে খোঁজ নেওয়া, বাদ পড়া ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, তাঁদের ক্ষোভ ও অভিমানকে সংহত করা—এই তিন স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে চলবে তৃণমূলের প্রচার। বার্তা একটাই—‘আপনার ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, দায় বিজেপির।’ এই কৌশলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক মতুয়া ভোট। হাবড়ায় মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোটার অনেক। কুমড়া- কাশীপুর ও মছলন্দপুর ২ পঞ্চায়েত এলাকায় এই সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস বেশি। এসআইআরে তাঁদের বিপুল সংখ্যক নাম বাদ গিয়েছে। তাই এই ইস্যু হাতিয়ার করে তৃণমূল সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করছে। গত লোকসভা ভোটে ‘বালুহীন’ হাবড়ায় পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। তাই তাদের কাছে এবারের লড়াই শুধু আসন জেতার নয়, হারানো জমি পুনর্দখলেরও। সংগঠনকে নীচুতলা পর্যন্ত সক্রিয় করে তোলার কাজ চলছে। যার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রার্থী স্বয়ং।
জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কথায়, ‘বিজেপি মানুষের ভোটদানের অধিকারই কেড়ে নিয়েছে নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে। তাই যেসব যোগ্য ভোটারের নাম কমিশন কেটে দিয়েছে, তাঁদের নিয়েই প্রতিবাদ গড়ে তুলব। সেই সঙ্গে মতুয়াদের বড় শত্রু যে বিজেপি, সেটাও প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। প্রচারে এটাও আমাদের ইস্যু। যোগ্য ভোটারদের নাম তুলতে আমাদের লড়াই চলবে।’ পালটা বিজেপি প্রার্থী দেবদাস মণ্ডল বলেন, ‘তৃণমূলের সব প্ল্যান ভেস্তে যাবে। মানুষ অপশাসন থেকে মুক্তি চাইছে। প্রচারে মানুষ আমাদের যেভাবে আশীর্বাদ করছেন, তাতে তৃণমূলের ভিত কেঁপে গিয়েছে। ভোটের ফলাফলে সব স্পষ্ট হয়ে যাবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ