Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কম ভোটে জেতা আসনেই বেশি ‘সন্দেহজনক ভোটার’,অভিযোগ তৃণমূল শিবিরের

লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিকে সন্দেহের চোখে দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস।

কম ভোটে জেতা আসনেই বেশি ‘সন্দেহজনক ভোটার’,অভিযোগ তৃণমূল শিবিরের
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিকে সন্দেহের চোখে দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস। দেখা যাচ্ছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যে সমস্ত আসনে তৃণমূল অল্প মার্জিনে জয়ী হয়েছিল, সেখানেই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। যা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে নদীয়া উত্তরের তেহট্ট, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, চাপড়া এবং নদীয়া দক্ষিণের কল্যাণীর মতো বিধানসভা বিশেষভাবে নজরে রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। প্রশ্ন উঠছে, এই সমস্ত কেন্দ্রে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে চাইছে না তো নির্বাচন কমিশন।

Advertisement

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, চাপড়া ও তেহট্ট, এই তিনটি আসনে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও এবার কৃষ্ণনগর দক্ষিণ ও তেহট্ট বিধানসভায় তৃণমূলের লড়াই কঠিন হতে চলেছে। কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভায় গত চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে তৃণমূল ৯ হাজার ভোটে পিছিয়ে রয়েছে বিজেপির থেকে। আবার একুশের বিধানসভা নির্বাচনে মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস এই কেন্দ্র থেকে মাত্র ৯ হাজার ভোটেই জয়ী হয়েছিলেন। উদ্বাস্তু অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে আনম্যাপড ভোটারের সংখ্যা ১০ হাজার ৬৬১ জন। কিন্তু সন্দেহভাজন ভোটার হিসেবে চিহ্নিত ৩২ হাজার ২০০ জন। এমনিতেই কৃষ্ণনগর দক্ষিণের একাধিক পঞ্চায়েতে বিজেপির একচেটিয়া দাপট রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাংগঠনিকভাবে ব্যাকফুটে থাকা কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে সন্দেহভাজন ভোটারের নামে যদি হাজার হাজার মানুষ ভোটাধিকার হারান, তাহলে চাপে পড়তে পারে শাসকদল। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আবার তেহট্ট বিধানসভায় একুশের নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের মার্জিন কম ছিল। মাত্র ৬ হাজার ৯০০ ভোটে জয়ী হয়েছিল ঘাসফুল শিবির। সেখানেই চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল ৮ হাজার ৩০০ ভোটে  পিছিয়ে পড়ে। তাই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে বিজেপি পাখির চোখ করেছে। এবার এই কেন্দ্রে নো ম্যাপিং ভোটারের সংখ্যা ৬ হাজার ৬২১। অথচ সন্দেহভাজন ভোটারের সংখ্যা ২৯ হাজারের কাছাকাছি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্ক থাবা বসানোর চক্রান্ত চালাচ্ছে না তো নির্বাচন কমিশন।

অন্যদিকে চাপড়া বিধানসভায় একুশের নির্বাচনে তৃণমূল ১২ হাজার ভোটে জিতেছিল। সেখানে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ভোটার হিসেবে নির্বাচন কমিশন চিহ্নিত করেছে ৪৮ হাজার জনকে। যদিও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত চাপড়া বিধানসভা কেন্দ্র তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সেখানেও ভোট হারানোর আশঙ্কা দেখা গিয়েছে। তবে কিছুটা উল্টো ছবি কল্যাণী বিধানসভায়। সেখানে একুশের নির্বাচনে তৃণমূল মাত্র ২ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছিল। এবার এই কেন্দ্রেই সবচেয়ে বেশি আনম্যাপড ভোটার পাওয়া যায়। সংখ্যাটা প্রায় ৩৩ হাজার ৫০০ জন। অথচ এই বিধানসভায় সন্দেহভাজন ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে মাত্র ১৪ হাজার ৭৮৪ জনকে।

কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল চেয়ারম্যান রুকবানুর রহমান বলেন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই তাঁদের সন্দেহ রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কমিশন একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের কথায় কাজ করছে। সাধারণ মানুষকে অহেতুক হয়রানি করা হচ্ছে। এর জবাব মানুষ আসন্ন নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে দেবে।

কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, তৃণমূল অযথা এসআইআর নিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন মানুষের সুবিধার জন্যই এই কাজ করছে, যাতে পরিচয়পত্রের ভুল থাকলে তা ঠিক করা যায়। তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ