


সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রঘুনাথপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে দলীয় কর্মী, সমর্থকদের তরফ থেকে সাপ লুডোর বোর্ড বিলি হচ্ছে। যে বোর্ডের মধ্যে চার রঙের চারটি ঘুঁটি রয়েছে। একটি খেলার ছক্কা ঘুঁটি রয়েছে। সেই চারটি ঘুঁটি এবং ছক্কাটিকে ছাড়িয়ে নিতে হচ্ছে। তারপর ছক্কা ঘুঁটিকে ভাঁজ করে ঘুঁটির আকার করে নিতে হচ্ছে। বিভিন্ন গ্রামে প্রচারে গিয়ে মহিলাদের হাতে, হাতে সাপ লুডোর এই বোর্ড তুলে দেওয়া হচ্ছে। মহিলারা সাপ, লুডোর বোর্ড পেয়ে খুশি। অন্যদিকে, তৃণমূল তাঁদের প্রকল্পের প্রচার সহজেই করতে পারছে।
তৃণমূলের দাবি, সাপ, লুডোর বোর্ডের মধ্যে দিয়ে মানুষকে বোঝানো হয়েছে দিদির উন্নয়ন প্রকল্প কীভাবে আমাদের সিঁড়ির মধ্যে দিয়ে উন্নত শিখরে পৌঁছে দিচ্ছে। আর সাপ অর্থাৎ বিজেপির মুখে পড়লে কীভাবে আমাদের টেনে নিচে নামিয়ে আনা হচ্ছে। সাধারণত সাপ-লুডো খেলায় ছক্কা ফেলতে হয়। সেখানে যে সংখ্যা থাকবে তা ধরে ঘুঁটি এগিয়ে যায়। ১ থেকে ১০০-তে পৌঁছোতে কেউ সিঁড়ি দিয়ে তরতর করে উপরে উঠে যান। আবার কখনও কেউ সাপের মুখে পড়ে সোজা নীচে নেমে যান। এভাবে যে খেলোয়াড় আগে ১০০-তে পৌঁছোতে পারে, তিনিই জেতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারের নির্বাচনে ‘খেলা হবে’র সঙ্গে জুড়েছে লুডো। যেখানে সিঁড়িতে ওঠার মইয়ের মধ্যে দিদির বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে। সেসব প্রকল্প রয়েছে সিঁড়ির তলায়। সেই সিঁড়ি ধরে উঠে গেলেই পৌঁছে যাওয়া যাবে এমন ঘরে, যেখানে থাকবে প্রকল্পের উপভোক্তাদের ছবি। আবার কোথাও কোথাও সিঁড়ির তলায় প্রকল্পের বাস্তব রূপের ছবি রয়েছে। ধরা যাক, বোর্ডের ৩ নম্বর ঘরে একটি বাড়ির ছবি রয়েছে। সেই ঘরে থাকা সিঁড়ি ধরে ঘুঁটি পৌঁছে যাবে সোজা ১৬ নম্বর ঘরে। সেখানে বাণিজ্যিক দিশারি বাংলা প্রকল্পকে দেখানো হয়েছে। তেমনই বোর্ডের ১২ নম্বর ঘরে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ রয়েছে। ওই ঘরের সিঁড়ি ধরে ঘুঁটি সোজা ৯৬ নম্বর ঘরে পৌঁছাবে। সেখানে দুই মহিলার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার ছবি রয়েছে। খেলা জিততে চারের প্রয়োজন। তবে শেষ ঘর অর্থাৎ ১০০ বা ‘জয় বাংলা’র ঘরে পৌঁছোতে গেলে খেলোয়াড়দের দু’টি ঘরের ‘দু’মুখো সাপ’ পেরোতে হবে। যার এক দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অন্য দিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছবি রয়েছে। ছবির মধ্যে দিয়ে বোঝানো হয়েছে, ওই দুই ঘরে ঘুঁটি গেলে খেলোয়াড়কে সাপের মুখে প়ড়তে হবে। এর ফলে একেবারে নিচে নেমে আসতে হবে।
তৃণমূলের মধ্যে সাপ লুডো খেলা কেন প্রাধান্য পেয়েছে? এবিষয়ে নেতৃত্ব জানান, মহিল, পুরুষ সবার সঙ্গে লুডোর একটা পুরানো সম্পর্ক রয়েছে। এখনো গ্রাম-গঞ্জের মহিলারা অবসর সময়ে লুডো খেলেন। এছাড়া এখন মোবাইল স্কিনেও লুডো খেলা সহজ হয়েছে।
রঘুনাথপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী হাজারি বাউরি বলেন, গ্রামগুলিতে প্রচারে বেরিয়ে মহিলাদের হাতে সাপ লুডোর বোর্ড তুলে দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৫০ হাজার বোর্ড বিলি হবে। যেখানে মহিলারা সহজে রাজ্য সরকারের উন্নয়ন ও প্রকল্পগুলি সম্পর্কে জানতে পারবেন। এবং কেন্দ্র কীভাবে আমাদের বঞ্চনা করে পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে চাইছে, সেটাও মানুষ বুঝবেন।