


সংবাদদাতা, চাঁচল: মালদহের চাঁচল মহকুমার চার বিধানসভা কেন্দ্রে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার ইস্যুকে হাতিয়ার করে মাঠে নামার পরিকল্পনা নিচ্ছে শাসকদল তৃণমূল। একইসঙ্গে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে একের পর এক বাঙালি হেনস্তা ও নিপীড়নের ঘটনাও সামনে নিয়ে আসা হবে। অত্যাচারিত সেই শ্রমিকদের প্রচারে মুখ করা হবে বলে তৃণমূল সূত্রের খবর। কয়েকমাস আগে ঘটে যাওয়া বিজেপি শাসিত রাজ্যে সেই অত্যাচারের স্মৃতি মানুষের মধ্যে উস্কে দিতে তৃণমূলের তরফে এই পরিকল্পনা।
চাঁচল, হরিশ্চন্দ্রপুর, রতুয়া ও মালতীপুর বিধানসভার মানুষ কৃষি নির্ভর। চাষাবাদ শেষ করে অনেকে ভিনরাজ্য বাড়তি রোজগারের জন্য যান। অনেকে আবার সংসার ছেড়ে ভিনরাজ্যেই কাটান ছ’মাস থেকে এক বছর। চাঁচল মহকুমার ছ’টি ব্লক থেকে প্রতি বছর কয়েক হাজার শ্রমিক গুজরাত,দিল্লি, হরিয়ানা ও রাজস্থান সহ বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে কাজে যান। অভিযোগ, সেখানে গিয়ে নানা হয়রানির শিকার হতে হয় বাংলাভাষী শ্রমিকদের। কখনও বাংলাদেশি সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদ, কখনও পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও থানায় নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা, কয়েক মাস আগে এমন অভিযোগে তোলপাড় হয় গোটা রাজ্য। ভয়ানক অত্যাচারের ঘটনা সামনে আসে একের পর এক।
মালদহ জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, রাজনৈতিক স্বার্থে কেন্দ্র একশো দিনের প্রকল্প চালু করা নিয়ে গড়িমসি করেছে বিজেপি। বাংলার শ্রমিকদের সঙ্গে বঞ্চনা করা হয়েছে। মানুষ বাধ্য হয়ে বাইরে যাচ্ছে।
তার উপর বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলার শ্রমিকদের উপর লাগাতার নিপীড়ন চলছে। মালদহ জেলা তৃণমূলের সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি বলেন,বাঙালি শ্রমিকদের বাংলাদেশি তকমা দেওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক। এলাকার কয়েকশো শ্রমিক বিজেপি শাসিত রাজ্যে অত্যাচারিত হয়েছেন। আসন্ন বিধানসভা ভোটে মানুষ এর জবাব দেবে। বিজেপির সেই অত্যাচার কেউ ভুলে যাননি। মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিতে জোরদার প্রচার চালানো হবে। প্রচারের সামনের সারিতে রাখা হবে অত্যাচারিতদের।
তৃণমূলের দাবি উড়িয়ে উত্তর মালদহ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অভিষেক সিঙ্ঘানিয়া বলেন, মালদহে শিল্পায়ন বা স্থায়ী কর্মসংস্থানের কোনো উদ্যোগ নেয়নি রাজ্য সরকার। তাই এলাকার মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক হচ্ছেন। ভোটের আগে আবেগ উস্কে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে তৃণমূল। মানুষজন তা মেনে নেবে না।
চাঁচল মহকুমা শ্রম দপ্তরের সহকারী কমিশনার নৌসাদ আলির কথায়, মহকুমায় পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ যোজনায় নথিভুক্তের সংখ্যা ১ লক্ষ ৩০ হাজার। বাইরে কেউ সমস্যায় পড়লে দপ্তরের তরফে সবরকম সাহায্য করা হয়ে থাকে।