সংবাদদাতা, কাটোয়া: পুরুষদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার কাটোয়ার আলমপুরের তৃণমূলের প্রধান। প্রধানের নাম মোল্লা নজরুল ইসলাম ওরফে বাবলু মোল্লা। বাড়ি কাটোয়া থানার অর্জুনডিহি গ্রামে। শুক্রবার ধৃতকে কাটোয়া মহকুমা এসিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
কাটোয়া-১ ব্লকের আলমপুর অঞ্চলের বেশ কয়েকটি গ্রামে বহু পুরুষের অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকত। তফসিলি জাতি ও উপজাতি শ্রেণির মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ১৭০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হতো। অভিযোগ, ওই অঞ্চলে অনেককেই তফসিলি জাতি ও উপজাতি দেখিয়ে তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকানো হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের অ্যাকাউন্টেও আলাদা ভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দেওয়া হতো। অভিযোগ, এসব করত আলমপুর গ্রামের যুবক কার্তিক মণ্ডল। সে কাটোয়া-১ ব্লকের চুক্তির ভিত্তিতে ডাটা এন্ট্রির কাজ করত। বেশ কয়েকটি গ্রামে বহু পুরুষদের অ্যাকাউন্টে সে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাইয়ে দিত। তার বিনিময়ে কার্তিককে প্রতি মাসেই ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা করে তুলে দিতে হতো। কার্তিক এমন কাজ করত প্রধান মোল্লা নজরুল হক ওরফে বাবলু মোল্লার সঙ্গে যোগসাজশ করেই।
গত ৯ জুলাই কাটোয়া থানায় কার্তিক মণ্ডল ও প্রধান মোল্লা নজরুল হক ওরফে বাবলু মোল্লার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানান আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা দীনেশ অধিকারী। দীনেশ নিজেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেতেন। কিন্তু দীনেশ বলেন, আমাকে দু’ বার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাইয়ে দিয়েছিল। প্রথমে আমি জানতে না পারলেও পরে বুঝতে পারি। তারপর বিডিও অফিসে গিয়ে লিখিতভাবে জানিয়ে আসি। আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা সুখেন মণ্ডল নামে এক যুবকের অ্যাকাউন্টে দেখা গিয়েছে প্রতিমাসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকেছে। আবার সুখেনের স্ত্রী রূপা মণ্ডলের অ্যাকাউন্টেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকেছে। রূপাদেবী বলেন, আমার স্বামীকে কার্তিক মণ্ডল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাইয়ে দিত। তার বিনিময়ে কার্তিককে প্রতি মাসেই ৪০০ টাকা করে দিতে হতো। এটা অন্যায় জেনেও তখন আমাদের কিছু করার ছিল না। গ্রামেরই বাসিন্দা বাপ্পা মণ্ডল বিয়েই করেননি। তিনি হায়দরাবাদে কাজ করেন। তাঁর অ্যাকাউন্টেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকেছে। নীলরতন ঘোষ, কুশল ঘোষের অ্যাকাউন্টেও কয়েক বছর ধরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকেছে।
আলমপুর অঞ্চলের ২৪২ নম্বর বুথের বিজেপির সভাপতি সোমনাথ হাজরা বলেন, ওই ডাটা এন্ট্রি অপারেটর প্রধানের সঙ্গে যোগসাজশ করে এসব দুর্নীতি করত। আমরা তখন ওদের ভয়ে কিছু বলতে পারতাম না। মহিলাদের জন্য সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করেছিল। কিন্তু পুরুষ লক্ষ্মীদের অ্যাকাউন্টেও মহিলাদের প্রকল্পের টাকা ঢুকবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। ওদের কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার।
প্রশ্ন উঠছে দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিয়ম হচ্ছে, অথচ ব্লক প্রশাসন এতদিন কেন এসব দেখল না। কোন নথি ব্যবহার করে পুরুষদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দেওয়া হতো তাও তদন্তের দাবি উঠেছে। এদিকে অভিযুক্ত কার্তিক মণ্ডল পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে কাটোয়া থানার পুলিশ।