


নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগের উপর সোমবার দুপুরে প্রাণঘাতী হামলা। আর সেই অভিযোগ উঠল সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে। আরামবাগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোড-শোতে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন মিতালিদেবী। পথের মাঝে গোঘাট প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে আচমকাই বাঁশ, লাঠি দিয়ে ভাঙচুর করা হয় তাঁর গাড়ি। বিজেপির পার্টি অফিসের সামনে যথেচ্ছভাবে ছোড়া হয় ইট ও পাথর। গাড়ির চালকের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচলেও, ভাঙা কাচের আঘাতে জখম হয়েছেন মিতালিদেবী। জখম হয়েছেন তাঁর গাড়ির চালক, দুই দেহরক্ষী এবং আপ্ত সহায়ক। সাংসদকে আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউ বিভাগে ভরতি করা হয়েছে। সাংসদের উপর হামলার ঘটনার খবর পেয়ে ক্ষুব্ধ অভিষেক আরামবাগের কর্মসূচি থেকেই ঘোষণা করেন, ‘তফসিলি সম্প্রদায়ের একজন মহিলা জনপ্রতিনিধির উপর হামলায় জড়িত কাউকে ছাড়া হবে না। একদা সিপিএমের হার্মাদ এখন জার্সি পালটে পদ্মশিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। তারাই এই হামলায় জড়িত।’ চারজনের নামও বলেন অভিষেক। এরপর গলার স্বর চড়িয়ে তৃণমূল সেনাপতির বার্তা—‘৪ তারিখ ডিজে তো বাজাবই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদার হতে পারেন, আরামবাগের কন্ট্রোল কিন্তু থাকবে আমার হাতে। এমন ডিজে বাজাব, কান ঝালাপালা করে দেব। কথা দিয়ে যাচ্ছি। দিল্লির বাবারা কাকে বাঁচাতে আসে দেখব!’
আরামবাগের কর্মসূচি সেরে হাসপাতালে মিতালিদেবীকে দেখতে যান অভিষেক। তাঁর উপর পরিকল্পিত এই হামলার ঘটনার বিবরণ দেন অভিষেককে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সাংসদকে আপাতত বিশ্রাম নিতে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাঁর রক্তচাপ কমেছে। চিকিৎসকদের নজরদারিতে রয়েছেন তিনি। হামলার এই ঘটনায় হুগলি জেলা প্রশাসনের থেকে রিপোর্ট তলব করছেন মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন সূত্র এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলায় জড়িত কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে নকুন্ডার বাসিন্দা সিন্টু সাঁতরা, সনাতন সাঁতরা ও রাজকুমার রায়কে। এরা বিজেপির ‘কারিওকর্তা’ বলে পরিচিত। তবে আরামবাগের প্রচার কর্মসূচি থেকে হামলায় জড়িত বলে যে চারজনের নাম অভিষেক বলেছিলেন, আটকের তালিকায় তারা কেউ নেই। অবাক করার মতো বিষয় হল, হুগলি জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে ঘটনার পর দ্রুততার সঙ্গে বিষয়টিকে ‘গোষ্ঠী কোন্দল’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এই ‘উদ্যোগ’ কেন, প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও।
এদিন দুপুরে গোঘাট প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে যখন আরামবাগের সাংসদের উপর হামলা হয়, তখন গাড়ির সামনের আসনে বসে ছিলেন মিতালিদেবী। পিছনের আসনে বসে একজন সেই মুহূর্তে হামলার ঘটনাটি মোবাইল ক্যামেরাবন্দি করেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সাদা ও লাল জামা পরা দুই ব্যক্তি গাড়ি থামাচ্ছে। চালকের ডানদিক থেকে ক্রমাগত উইন্ডস্ক্রিনে বাঁশপেটা চলছিল। সঙ্গে দু’পাশ থেকে ইট-পাথর বৃষ্টি। মিতালিদেবীকে বলতে শোনা যায়, ‘মারুক ওরা, মারুক।’ এই সময়ই সামনে থেকে এক ব্যক্তি বাঁশের আঘাতে উইন্ডস্ক্রিন গুঁড়িয়ে দেয়। ততক্ষণে ভেঙে দেওয়া হয়েছে পিছনের এবং গাড়ির প্রতিটি জানলার কাচ। ভয়াবহ ওই আক্রমণের মধ্যেই গাড়ি চালিয়ে এলাকা ছাড়েন চালক। মিতালিদেবী বলেন, ‘আমাকে প্রাণে মারার জন্যই বিজেপির এই হামলা।’ এদিন অভিষেক বলেন, ‘যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের জীবন আগামী দিনে কঠিন হতে চলেছে। সোমাশ্রী, তার স্বামী, সৌমেন পাল এবং দোলন নামে চারজন হামলায় সরাসরি যুক্ত। কেউ পার পাবে না।’