


অভিষেক পাল, বহরমপুর: হাই ভোল্টেজ বহরমপুর আসনে এবার ত্রিমুখী লড়াই। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে এখনও এই কেন্দ্রে ঘাসফুল ফোটাতে অসমর্থ তৃণমূল। এবার তাই তারা মরিয়া। তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পদযাত্রা করে শহরের ভোটকে অনেকটাই ঘুরিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। এখানে ঘাসফুল প্রার্থীর লড়াই একদিকে যেমন বিজেপির সুব্রত মৈত্রের বিরুদ্ধে, তেমনি অন্যদিকে কঠিন লড়াই কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীর সঙ্গে।
এক সময় বহরমপুর তথা গোটা মুর্শিদাবাদ জেলার ‘বেতাজ বাদশা’ বলা হতো যাঁকে, আজ তিনিই নিজের শহরে প্রচারে বেরিয়ে ঢোঁক গিলছেন। অনুগামীরাও আজও তাঁকে বলেন ‘রবিনহুড’। কিন্তু অধীরের পায়ের তলার মাটি ক্রমশ আলগা হচ্ছে। একটা সময় মুর্শিদাবাদ জেলার বেশিরভাগ বিধায়ক, বেশিরভাগ পুরসভা, জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সর্বত্র যাঁর ‘ডি ফ্যাক্টো’ শাসন চলত, তিনি নিজে এবার বিধানসভায় প্রার্থী। পাঁচবারের সাংসদ, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, লোকসভায় কংগ্রেসের প্রাক্তন দলনেতা আজ রাজনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে নিজের শহরেই খড়কুটো আঁকড়ে ভেসে থাকার চেষ্টা করছেন। চব্বিশের লোকসভা ভোটে ইউসুফ পাঠানের বিরুদ্ধে হারের পর রাজনীতিতে অধীরের অবস্থা সেই জমিদারের মতো, যার রাজপাট আর নেই। এদিকে তাঁরই একসময়ের সহকর্মীরা আজ জেলার দাপুটে বিধায়ক। বর্তমানে বহরমপুর বিধানসভায় তৃণমূল ও বিজেপির দুই প্রার্থীই একসময়ে তাঁর রাজনৈতিক অনুগামী ছিলেন। এখন তাঁরাই অধীরকে রাজনৈতিক ময়দানে পরাস্ত করতে মরিয়া। তাই বহরমপুরের আসনে এবার যেন রাজনীতির ধর্মযুদ্ধ!
সর্বভারতীয় স্তরের কংগ্রেস নেতাকে এবার বিধানসভায় লড়তে হচ্ছে। অধীরবাবু অবশ্য বলেছেন, ‘দল নির্দেশ দিয়েছে তাই।’ রাজনৈতিক মহলের দাবি, প্রাক্তন সাংসদ বিধানসভায় জিতে অন্তত রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকতে চাইছেন। আর তাতে তাঁর অবশ্য মূল ভরসা নিজের শহর বহরমপুর। এখানকার ২৮টি ওয়ার্ডের ভোটার এতদিন সব নির্বাচনেই হাতের উপর ভরসা রেখেছেন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারে পুর পরিষেবার নিরিখে। সেখানেই এগিয়ে তৃণমূল। কারণ, প্রায় চার বছর বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করছেন প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। ২৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২২টি ওয়ার্ড তৃণমূলের দখলে। কাউন্সিলাররা এলাকার মানুষের সঙ্গে লাগাতার জনসংযোগ রেখেছেন। শহরেও অত্যন্ত পরিচিত মুখ নাড়ুগোপাল। মানুষের পাশে থেকে জনসমর্থন আদায়ে এখন তাঁর জুড়ি মেলা ভার। তিনিও জয়ের ব্যাপারে প্রত্যয়ী। নাড়ুগোপালবাবু বলেন, মানুষ সারা বছর আমাদের পাশে পান। অধীরবাবু তো বিপদ দেখলেই কেটে পড়েন। উনি বেশিরভাগ সময় দিল্লিতে থাকেন। আর এখানকার বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক কোনো পরিষেবা দেয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন এবং জনমুখী পরিষেবার নিরিখে আশা করছি, এবার মানুষ একবার আমাকে অন্তত সুযোগ দেবেন। তবে এবছর বাম ও কংগ্রেসের জোট না হলেও বহরমপুর আসনে প্রার্থী দেয়নি সিপিএম। তাদের মাইলেজ দেওয়ার জন্যই এই পরিকল্পনা বলে দাবি পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের। তিনি বলেন, অধীরবাবু নিজের রাজনৈতিক সুবিধা চরিতার্থ করতে কখনও সিপিএমের সঙ্গে হাত মেলান, কখনও বিজেপির সঙ্গে। এটা নতুন কিছু নয়। মানুষ এবার বিধানসভায় হারিয়ে ওকে পুরভোটে লড়াই করতে পাঠাবে। অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে প্রচারে বহরমপুরের তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। -নিজস্ব চিত্র