


সংবাদদাতা, ঘাটাল: ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’কে বাস্তবায়িত করতে দলের কর্মীদের সর্বতোভাবে সহযোগিতার আহ্বান জানাল তৃণমূল নেতৃত্ব। রবিবার দুপুরে তৃণমূলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার কর্মীদের নিয়ে একটি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। ঘাটাল শহরের বিদ্যাসাগার স্কুল মাঠে ওই সভা হয়। ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার ১০টি ব্লক এবং ছ’টি পৌরসভা এলাকার কর্মী ও নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই সেচ মন্ত্রী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া, জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক অজিত মাইতি একই সুরে জানান, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান যেমন করে হোক বাস্তবায়িত করতে হবে। এরজন্য তৃণমূলের কর্মীদেরও মাঠে নামতে হবে।
মানসবাবু বলেন, আমাদের লক্ষ্য ফাইট ফর মেদিনীপুর, ফাইট ফর ঘাটাল এবং ফাইট ফর ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান। তাই ঘাটাল মহকুমার কয়েক দশকের দুর্দশার সমাধান করার জন্য জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেটাকে বাস্তবায়িত করতেই হবে। অজিতবাবুও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণের বিষয়ে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা আহ্বান করেন। সেই সঙ্গে দলকে আরও মজবুত করতে কর্মীদের জনসংযোগে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। তিনি বলেন, কর্মীদের পরস্পরের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থাকতে পারে। কিন্তু সেটার প্রভাব যেন দলের উপর না পড়ে। তিনি বলেন, সামনেই বিধানসভা ভোট। সেই ভোটকে পাখির চোখ করে কর্মীদের এখন থেকেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাঠে নামতে হবে। বিজেপি যেন বুঝতে পারে তাদের স্থান এই বাংলায় নেই।
এদিন রোদ, গরমকে উপেক্ষা করেই সকাল ১০টা থেকে কাতারে কাতারে দলীয় সমর্থক ও কর্মীরা মাঠে আসতে শুরু করেন। তৃণমূলের অন্যান্য শাখা সংগঠনের নেতা ও কর্মীরাও এদিনের কর্মিসভায় এসেছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বীরসেনাদের উদ্দেশে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানানো হয়। দলের ঘাটাল শহর কমিটির সভাপতি অরুণকুমার মণ্ডল বলেন, প্রায় ১৫ হাজার কর্মী উপস্থিত ছিল। মঞ্চে অজিতবাবু, মানসবাবু ছাড়াও রাজ্য নেতা আশিস হুদাইত, মন্ত্রী শিউলি সাহা, তিন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর, মমতা ভুঁইয়া, অরূপ ধাড়া প্রমুখ নেতাদের পাশাপাশি বসতে দেখে উৎসাহিত বোধ করেন।
ঘাটাল ব্লক সভাপতি দিলীপ মাজি এবং জেলা নেতা বিকাশ কর বলেন, এত গরমেও কর্মীদের উৎসাহ দেখে আমরা অভিভূত। এবার বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী দলগুলির যে কোনও অস্তিত্ব থাকবে না এদিনের কর্মিসভা তারই ইঙ্গিত দিল।
এদিনের অনুষ্ঠানের বিশেষ কারণে সাংসদ দীপক অধিকারী(দেব) উপস্থিত হতে পারেননি। সাংসদ প্রতিনিধি রামপদ মান্না বলেন, দাদা(দেব) ফোনে নিয়মিত কর্মিসভার খোঁজ নিয়েছেন। কর্মীদের কোনও সমস্যা হয়েছে কি না, তা জানতে চেয়েছেন। নিজস্ব চিত্র