নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সরকার পরিবর্তন হলেও রাজ্যের প্রায় সব পুরসভা, পঞ্চায়েত ও জেলা পরিষদ এখনও তৃণমূলের দখলে। শনিবার সোনারপুরে মৃত দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আশ্চর্যের বিষয় হল, সেখানে কোনো কাউন্সিলার, কোনো স্থানীয় নেতা বা বিধানসভা ভোটের তৃণমূল প্রার্থী লাভলি মৈত্র—কারও দেখা পাওয়া যায়নি। যার ফলে ব্যাপক জনরোষ প্রতিরোধের জন্য কাউকেই পাশে পাননি অভিষেক। তাঁর দু’জন নিরাপত্তারক্ষী রীতিমতো হিমশিম খেলেন তাঁকে রক্ষা করতে। চারদিক থেকে তখন অনবরত কিল, চড়, ঘুসি এবং ডিম ছোড়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে, দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড যখন সোনারপুরে কোনো কর্মসূচিতে আসছেন, তখন কেন দলীয় নেতাকর্মীদের একজনকেও তাঁর পাশে দেখা গেল না? এ ব্যাপারে সোনারপুর দক্ষিণের কোনো তৃণমূল কাউন্সিলার বা দলের পদাধিকারীরা কেউই মন্তব্য করতে চাননি। তাঁদের বারবার ফোন করা হলেও ধরেননি। কেউ কেই ফোন কেটে দিয়েছেন। ভোটের আগে যখন যেখানে অভিষেকের কর্মসূচি থাকত, কাতারে কাতারে ভিড় জমাতেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে সেই বিপুল কর্মী-সমর্থক বাহিনী বা স্থানীয় নেতাকর্মীরা কার্যত ঘরে ঢুকে গিয়েছেন। সোনারপুরের পঞ্চায়েত এলাকার এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সকাল থেকেই বিজেপি ওই চত্বরে লোকজন জড়ো করেছিল। তৃণমূল কর্মীরা যাতে এলাকায় না ঢুকতে পারে, তার জন্য হুমকিও দেওয়া হয়। তবে এটা ঠিক, যখন আমাদের নেতা ওই এলাকায় ঢুকছিলেন, তখন আশপাশের কর্মীদেরই তাঁর পাশে থাকা উচিত ছিল। আমাদের কিছু লোকজন যদি যেত, তাহলে হয়তো এমন হেনস্তার শিকার হতে হত না অভিষেককে।’



