Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভাটপাড়াও এবার ঘাসফুলের দখলে আশাবাদী তৃণমূল নেতা-কর্মীরা

২০১৯ সালে বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি জেতার পর রীতিমত তাণ্ডব চলেছিল বারাকপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে। কিন্তু ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটে একমাত্র ভাটপাড়া আসনটি বিজেপি নিজেদের দখলে রাখতে পেরেছিল, বাকি ছটি আসন ছিল তৃণমূলের দখলে।

ভাটপাড়াও এবার ঘাসফুলের দখলে আশাবাদী তৃণমূল নেতা-কর্মীরা
  • ২ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর:   ২০১৯ সালে বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি জেতার পর রীতিমত তাণ্ডব চলেছিল বারাকপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে। কিন্তু ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটে একমাত্র ভাটপাড়া আসনটি বিজেপি নিজেদের দখলে রাখতে পেরেছিল, বাকি ছটি আসন ছিল তৃণমূলের দখলে। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপির হাত থেকে ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল। এবারের বিধানসভা ভোটে নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর তৃণমূল। বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি আসনের মধ্যে তাদের লক্ষ্য ছিল ছটি দখলে রাখা, আর ভাটপাড়াটা আসনটি বিজেপির হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া। গত কয়েকটি নির্বাচনের থেকে এবার সর্বাধিক ভোট পড়েছে এই শিল্পাঞ্চলেও, প্রায় ৯২%। অশান্তির শিল্পাঞ্চল ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ ছিল। রীতিমতো কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছিল তৃণমূলের নেতা কর্মীরা। তৃণমূল নিশ্চিত এবার তাদের ঝুলিতে ছটি আসন থাকবেই, ভাটপাড়া হয়েও যেতে পারে।

Advertisement

এ ব্যাপারে অবশ্য দমদম বারাকপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি পার্থ ভৌমিক দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে তৃণমূলের কর্মীরা। আমরা বারাকপুর, নোয়াপাড়া, জগদ্দল, নৈহাটি এবং বীজপুর এই ছটি আসন জিতছি। মার্জিন কত বাড়বে এখন সেটাই দেখার। তবে ভাটপাড়া আসনটি ফিফটি ফিফটি রয়েছে। সেখানকার নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান গোপাল রাউতকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে ঢোকানো হয়েছে। আরো কয়েকজন কাউন্সিলর কে পুলিশ এবং এনআইএ বাড়িছাড়া করে দিয়েছে। তার মধ্যে তৃণমূলের ছেলেরা কাজ করেছেন। মানুষ ভোট দিয়েছে। আমরা আশাবাদী। 

উল্টোদিকে তার চির প্রতিদ্বন্দ্বী অর্জুন সিং অবশ্য জানিয়ে দিয়েছেন, ভাটপাড়া বিজেপির দখলে থাকবেই। তিনি নিজে নোয়াপাড়াতেও জিতবেন। বিজপুর শহর অন্যান্য আসন ভালো ফল করবে বিজেপি। এবার ভোটারদের প্রভাবিত করা বা বুথে দাদাগিরি করতে পারেনি তৃণমূল। কেন্দ্রীয় বাহিনী কাউকে ঘেঁষতে দেয়নি। 

কোন বিধানসভা কেন্দ্রের কি ফলাফল হবে তাই নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। বারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী পরিস্কার জানিয়েছেন, গতবারের থেকে মার্জিন অনেক বাড়বে। কুড়ি থেকে ২২ হাজার হতে পারে। বিজপুরের সুবোধ অধিকারী বলেছেন, পাঁচ বছর ধরে মানুষের জন্য যে কাজ করেছি, মানুষ আশা করি মুখ ফেরাবে না। গতবারের লড়াইটা অনেক কঠিন ছিল। উল্টো দিকে প্রার্থী ছিলেন মুকুল রায় পুত্র শুভ্রাংশু রায়। নৈহাটির তৃণমূল প্রার্থী সনৎ দের মাথাব্যথা উপনির্বাচনের মার্জিন বাড়ানো। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসের উপনির্বাচনে তিনি ৪৯ হাজার ভোটে জিতেছিলেন। এবার মার্জিন তার থেকে বাড়ি কিনা সেই নিয়েই চিনি চিন্তিত। জগদ্দল এর সোমনাথ শ্যাম জয়ের ব্যাপারে পুরো নিশ্চিত। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য।

শুধু বিধায়করা নয়, চিন্তিত কাউন্সিলরাও, তাদের ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থীদের লিড হবে কিনা। বুথ ধরে ধরে সেই বিশ্লেষণ করছেন কাউন্সিলররা। কারণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, যে ওয়ার্ডে তৃণমূল হারবে সেখানে কাউন্সিলররা টিকিট পাবেন না। তাই তৃণমূল প্রার্থীদের সঙ্গে সঙ্গে কাউন্সিলরদের ঘুম ছুটে গেছে। এখন দেখার সোমবার শেষ হাসি কে বা কারা হাসে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ