Bartaman Logo
৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঘরছাড়াদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দিল তৃণমূল নেতা

ঘরে ফেরাতে মোটা টাকা জরিমানা নিয়েছিল তৃণমূলের নেতারা। এবার ক্ষমতা থেকে সরতেই সেই টাকা বিজেপি কর্মীদের ফেরত দিল তারা।

ঘরছাড়াদের কাছ থেকে নেওয়া  টাকা ফেরত দিল তৃণমূল নেতা
  • ১৮ মে, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, বোলপুর: ঘরে ফেরাতে মোটা টাকা জরিমানা নিয়েছিল তৃণমূলের নেতারা। এবার ক্ষমতা থেকে সরতেই সেই টাকা বিজেপি কর্মীদের ফেরত দিল তারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নানুর ও শান্তিনিকেতন সংলগ্ন এলাকায়। বিজেপির অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সন্ত্রাসের জেরে বহু কর্মী ঘরছাড়া হয়েছিলেন। তাঁদের ঘরে ফেরাতে মোটা টাকা নেওয়া হয়। সেই টাকাই ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে দাবি।

Advertisement

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, শান্তিনিকেতন থানা এলাকার অন্তত এগারো জন বিজেপি নেতাকর্মী গত শনিবার সেই টাকা ফেরত পেয়েছেন। ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল। নানুরের কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েত ও আশপাশের এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি বিজেপির। ঘরছাড়া কর্মীদের এলাকায় ফিরতে হলে আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা দিতে হয়েছিল বলে অভিযোগ। শনিবারের পর রবিবারেও কয়েকজন বিজেপি কর্মীকে টাকা ফেরত দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।
সিয়ান-লায়েকবাজার এলাকার বিজেপি কর্মী সব্যসাচী রায় জানান, ২০২১ সালের নির্বাচনের পর বিজেপির করার অপরাধে আমাদের অনেকের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। ভাঙচুর করা হয় বাড়িঘর, পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। দীর্ঘদিন এলাকা ছাড়া থাকার পর বাড়ি ফেরার জন্য চাপের মুখে টাকা দিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ তাঁর। বিজেপির কয়েকজন কর্মীর দাবি, টাকা জোগাড় করতে গিয়ে বাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে। স্থানীয় দুই তৃণমূল নেতা মামন শেখ ও আলেফ শেখের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছেন বিজেপির কর্মীরা। এদের মধ্যে একজন পঞ্চায়েত উপপ্রধান ও অন্যজন তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি। এদের দুজনের পরিচিত লোকদের মাধ্যমেই সেই টাকা ফেরানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে বিজেপি সূত্রে। বিজেপি আর দাবি করেছে, এই দুই তৃণমূল নেতা জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা হাসন বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক কাজল শেখের অনুগামী বলে পরিচিত। যদিও এদিন এই দুই নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। 
তবে এই ঘটনার দায় নিজের কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলেছেন তৃণমূল নেতা কাজল শেখ। তিনি বলেন, ২০২১ সালের সময় ওই এলাকার কোনো দায়িত্ব আমার ছিল না। যা কিছু দায়িত্ব চারকলগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এই পঞ্চায়েতের হাটসেরান্দি গ্রামও আমার অধীনে ছিল না। কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েতে যদি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকে বা কেউ জোর করে টাকা নিয়ে থাকে, সে বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।

সম্পর্কিত সংবাদ