কলেজের অস্থায়ী চাকরিতে যেতে না পারায় সংসার চালাতে চা ও ঘুগনি বেচছেন ময়নার তৃণমূল নেতা
  • ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ময়না কলেজে অস্থায়ী কর্মীর চাকরি করতেন। কিন্তু, পালা বদলের পর যেতে না পারায় সংসার চালাতে এখন চা ও ঘুগনি বেচছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা।  ২০১৩ সালে কলেজে অস্থায়ী নন টিচিং কর্মী হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন উত্তম লিজকা। ১৩ বছর নির্বিঘ্নে চাকরি করেছেন। মাসে ১৩ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পেতেন। গত মে মাসে রাজ্যে পালাবদলের পরই আর কলেজে যেতে পারছেন না তিনি। বার বার বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। শেষপর্যন্ত আশা ছেড়ে দিয়ে বিধবা মা, স্ত্রী ও আট বছরের মেয়ের ভরণপোষণের জন্য ঘুগনি মুড়ি বিক্রি করছেন। শুধু উত্তমবাবু নন, তাঁর মতো আরও চারজন ১৩বছর কাজ করে আসার পর এখন আর ময়না কলেজে যেতে পারছেন না।

Advertisement

ময়না কলেজ থেকে ৪০০মিটার দূরে আনন্দপুর গ্রামে উত্তমবাবুর বাড়ি। তিনি যুব তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি অস্থায়ী কলেজ কর্মী সংগঠনের রাজ্য কমিটির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন।  বিজেপির লোকজন তাঁকে ও আরও চারজনকে কলেজে যেতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় তাঁরা মাইনেও পাচ্ছেন না। রুজিরুটির সংস্থান করতে আনন্দপুর গ্রামে কলেজ রোডে একটি চা, ঘুগনির দোকান খুলেছেন উত্তমবাবু। সেখানে সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত  চা, ঘুগনি বিক্রি করছেন।  ভবিষ্যতে কলেজের দরজা তাঁর জন্য খুলবে কি না, তা জানেন না উত্তমবাবু। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে নিরুপায় ওই তৃণমূল নেতা এখন চা,  ঘুগনি বেচছেন। উত্তমবাবু বলেন, সকালে ঘুগনি ও চা বিক্রি করে দেড় দু’শো টাকা রোজগার হয়। বিকালে আরও শ’তিনেক টাকা পাওয়া যায়। কোনওরকমে সংসার চলে যাচ্ছে। প্রথম কয়েক মাস বাড়িতে চুপচাপ বসেছিলাম। কী করব তা ভেবে কুলকিনারা করতে পারছিলাম না। ঘুগনি, চা বিক্রি করলে লোকে কী বলবে এসব নানা চিন্তা মাথার মধ্যে ঘরিপাক খাচ্ছিল। কিন্তু, পরিস্থিতির চাপে হীনমন্যতা কাটিয়ে শেষমেষ এই কাজ শুরু করেছি। এতে আর যাই হোক মা, স্ত্রী ও মেয়ের মুখে অন্ন তুলে দিতে পারছি। মেয়ের পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছে। প্রথম প্রথম সঙ্কোচ লাগলেও এখন স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, ২০১৩ সালে চুক্তিতে অশিক্ষক কর্মী হিসেবে ময়না কলেজে মোট ১২জনকে নিয়োগ করা হয়। তাঁরা বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। সেই ১২ জনের মধ্যে পাঁচজন ৪মের পর বিজেপির রোষে পড়েছেন। তাঁরা হলেন, উত্তমবাবু, নির্মল বেরা, রাজু অধিকারী, তরুণ পড়্যা ও সৈকত মান্না। উত্তমবাবু কলেজে শারীরশিক্ষা বিভাগে কর্মরত ছিলেন। নির্মলবাবু ও সৈকতবাবু লাইব্রেরি বিভাগে, রাজুবাবু অফিসে এবং তরুণবাবু ল্যাবরেটরিতে কর্মরত ছিলেন। এ বিষয়ে বিজেপির ময়না ব্লক কমিটির কনভেনর সম্রাট সামন্ত বলেন, আমাদের দলের পক্ষ থেকে ওঁদের কলেজে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়নি। তবে, কলেজে কিছু সমস্যা চলছে। পুজোর পর এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।-নিজস্ব চিত্র