সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: মাত্র পাঁচ মাসেই মোহভঙ্গ! বাংলার কুর্সিতে বসার পর থেকেই তোলাবাজি, দুর্নীতির অভিযোগে ঘরে-বাইরে বিদ্ধ বিজেপি। এবার গেরুয়া শিবিরের নেতা-কর্মীদের একাংশের অনৈতিক কাজকর্মের দিকে আঙুল তুললেন দলের বিধায়কও। হুঁশিয়ারি দিলেন এমএলএ পদ ছাড়ার। তিনি দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী প্রদীপ মজুমদারকে হারিয়ে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের নজর কেড়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেও এলাকায় পরিচিত। সেই চন্দ্রশেখর রবিবার দুর্গাপুরের অমরাবতীতে কালীপুজোর খুঁটিপুজো অনুষ্ঠানে এসে সাফ ঘোষণা করেছেন, ‘চোর-ছ্যাঁচোড়দের জন্য দল করতে আসিনি। প্রয়োজনে পদত্যাগ করব।’ তাঁর এই নজিরবিহীন হুমকির নেপথ্যে শিল্পাঞ্চলে গেরুয়া শিবিরের চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ছায়া দেখছে রাজনৈতিক মহল। তাদের মতে, দুর্গাপুরের দুই বিধায়কের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই দীর্ঘদিনের। এখন সেটা প্রকাশ্যে।
ওই অনুষ্ঠানে চন্দ্রশেখর বলেন, ‘বিধানসভা নির্বাচনে যাঁদের কোনো অবদান নেই, তাঁরা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে কর্পোরেশন ভোট করতে চাইছেন। কয়লা চোর, বালি চোরদের মঞ্চে তুলে নিজেদের প্রভাব বাড়াচ্ছেন। এভাবে আমাকে বিব্রত করা যাবে না। যেদিন আমার মনে হবে সব কিছু সঠিক পথে চলছে না, তখন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে পদত্যাগ করব। চোর-ছ্যাঁচোড়দের জন্য পার্টি করতে আসিনি। মানুষের সেবা করতে আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করতে এসেছি। প্রয়োজনে মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে বাড়িতে বসে যাব। এই সব লোকেদের সঙ্গে রাজনীতি করব না।’
জানা গিয়েছে, দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা এলাকার এক যুবনেতা এবার ঘটা করে দুর্গাপুজো করেছেন। সেই পুজোর অনুষ্ঠানে এমন এক ব্যক্তিকে সংবর্ধনাও দিয়েছেন, যিনি শিল্পাঞ্চলের সরকারি জমি দখল, অবৈধ বালি কারবার সহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত। তৃণমূলের আমলে তাঁর বিরুদ্ধেই সবচেয়ে বেশি সরব ছিল বিজেপি। শাসকদল হওয়ার পর সেই ব্যক্তিকেই মঞ্চে তুলে যুবনেতা সংবর্ধনা দেওয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। দলের অন্দরেও ক্ষোভ তৈরি হয়। বিজেপির ওই যুবনেতা আবার তৃণমূলের দাপুটে শ্রমিক নেতা বান্টি সিংয়ের খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠানেও উপস্থিত হয়েছিলেন। পরে সেই বান্টি সিংয়ের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। চন্দ্রশেখর নিজেও সোমবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দলের ওই যুবনেতার কাজকর্মে তিনি অসন্তুষ্ট। বিধায়ক বলেন, ‘অন ক্যামেরা বলছি, সেদিন যারা বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন তাদের সমর্থন করছি। যাঁরা ভাবছেন তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের নিয়ে প্রভাব খাটাবেন, সেটা হবে না। দলের নীচুতলার কর্মীরা বাঁশ, বাটাম নিয়ে রেডি। মাঝেমধ্যেই দাওয়াই হবে।’ চন্দ্রশেখরের এই হুমকিকে শিল্পাঞ্চলে ‘বিজেপির মুষলপর্ব’ বলে কটাক্ষ করছে বিরোধীরা। সিপিএম জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘ঋতব্রতদের নিয়ে আরএসএসকে ব্ল্যাকমেল করছেন শুভেন্দু। আর চন্দ্রশেখর পদত্যাগের হুমকি দিয়ে বিজেপির বাকি অংশকে চাপে রাখছে।’ কংগ্রেস নেতা দেবেশ চক্রবর্তীর কটাক্ষ, পাঁচ মাসেই দুর্গাপুরে বিজেপির কঙ্কালসার চেহারা বেরিয়ে পড়েছে।



