মণিরাজ ঘোষ, খড়্গপুর: দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো পেরিয়েছে। সামনেই আলোর উৎসব, কালীপুজো। আর তার আগে অন্ধকারে ডুবে সবংয়ের ‘মাদুর হাব’। গত ৪ মে, ভোটের ফল বেরোনোর দিন থেকেই বন্ধ সবংয়ের গর্ব এই মাদুর হাব। বন্ধ হয়ে গিয়েছে উৎপাদন এবং প্রশিক্ষণ। কাজ হারিয়েছেন শতাধিক মহিলা। জিআই ট্যাগ প্রাপ্ত সবংয়ের মাদুরের চাহিদা রয়েছে দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও। সেই মাদুর হাবই টানা ছ’ মাস ধরে বন্ধ। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এজন্য তাঁরা সংকীর্ণ রাজনীতির দিকেই আঙুল তুলছেন। কবে চালু হবে মাদুর হাব? সদুত্তর নেই প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে। বিজেপি বিধায়ক অমল পন্ডার দায়সারা উত্তর, ‘বেশ কিছু সমস্যা ছিল। অভিযোগও আছে। সমস্যাগুলির সমাধান করে, দ্রুত মাদুর হাব চালু করার উদ্যোগ নিচ্ছি।’ বিজেপিরই অন্য এক গোষ্ঠীর নেতাদের যদিও দাবি, বিধায়ক উদ্যোগী হলে এতদিনে সমস্যা মিটে যেত।পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার পট ও সবংয়ের মাদুরের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয় সবংয়ের মাদুর থেকে। সবংয়ে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত মাদুর শিল্পীরাও আছেন। সবংয়ের বিখ্যাত ‘মসলন্দ’ মাদুর জিআই তকমাও পেয়েছে। বিগত রাজ্য সরকারের আমলে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সবংয়ের রুইনানে মাদুর হাবের উদ্বোধন হয়। পরে সেখানে ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মাদুর তৈরির উন্নত যন্ত্রপাতি বসানো হয়। ভোটের মাস দুয়েক আগে আনুষ্ঠানিক ভাবে কাজও শুরু হয়। এলাকার প্রায় ১৫০ মহিলা সেখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। প্রশিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন পাঁচ মহিলা। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেখানে বিভিন্ন ধরনের মাদুর ছাড়াও ব্যাগ, মানিপার্স প্রভৃতিও তৈরি হচ্ছিল। সেইসমস্ত সামগ্রী বিক্রির লভ্যাংশ পেতেন কর্মরত মহিলারা। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের তরফেও প্রশিক্ষণের জন্য প্রতিদিন মাথাপিছু ৫০ টাকা করে ধার্য করা হয়েছিল। মাদুর হাবের এক প্রশিক্ষক মিঠু সাঁতরা এদিন বলেন, ‘৪ মে বিকেলে এলাকার কিছু নেতা গিয়ে বলে, সবাই এখান থেকে চলে যান। তারপর গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। সেই থেকেই বন্ধ।’ তিনি এও জানান, ‘মাসে আমরা সাত-আট হাজার টাকা পারিশ্রমিক পেতাম। মহিলারাও কাজ শিখছিলেন। সেইসঙ্গে তাঁদের আয়ও হচ্ছিল। ছ’ মাস ধরে সব বন্ধ।’ মাদুর হাবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন সবিতা মিশ্র, পুতুল জানা, খুকু মুলা, আল্পনা মাঝি, চন্দনা সাউ প্রমুখ শতাধিক মহিলা। তাঁদের দাবি, মাদুর হাব ফের চালু করার জন্য তাঁরা একাধিকবার বর্তমান বিধায়ক অমল পন্ডার দ্বারস্থ হয়েছেন। আশ্বাস মিললেও মাদুর হাব খোলেনি। মাদুর হাবের ডিরেক্টর তথা তৃণমূল পরিচালিত জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ আবু কালাম বক্স বলেন, ‘কয়েক লক্ষ টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি ভিতরে আছে। পাশাপাশি মহিলাদের তৈরি প্রচুর সামগ্রীও তালাবন্ধ অবস্থায় আছে। এতদিনে সেসব হয়তো নষ্ট হয়ে গিয়েছে।’ এলাকার প্রবীণ বিজেপি নেতা অমূল্য মাইতি বলেন, ‘আমি বিষয়টি জেলাশাসকের নজরে এনেছিলাম। তিনি বিডিওকে নির্দেশ দিয়েছেন। জানি না এখনও কেন সমস্যার সমাধান হল না।’ বিডিও রোমান মণ্ডল বলেন, ‘কালীপুজোর পরই যাতে মাদুর হাব চালু করা যায়, আমরা সেই উদ্যোগ নিচ্ছি।’-নিজস্ব চিত্র



