Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ময়ূরেশ্বরে ভোট পরবর্তী হিংসায় দাপুটে তৃণমূল নেতা পাকড়াও

একুশে বিধানসভা ভোটের পর হিংসার ঘটনায় ময়ূরেশ্বর-২ ব্লকের দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি জটিলেশ্বর মণ্ডল ওরফে জটিলকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।

ময়ূরেশ্বরে ভোট পরবর্তী হিংসায় দাপুটে তৃণমূল নেতা পাকড়াও
  • ২৪ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: একুশে বিধানসভা ভোটের পর হিংসার ঘটনায় ময়ূরেশ্বর-২ ব্লকের দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি জটিলেশ্বর মণ্ডল ওরফে জটিলকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। শুক্রবার রাতে তাঁকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন সহ বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শনিবার ধৃতকে রামপুরহাট আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী মনিরুল ইসলাম বলেন, বিচারক অভিযুক্তকে ৬জুন পর্যন্ত জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও আগাম নোটিস ছাড়াই তাঁর গ্রেপ্তারির বৈধতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযুক্তের আইনজীবী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা সাত বছর বা তার কম, সেক্ষেত্রে পুলিশ সরাসরি কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে না। এই ধরনের মামলায় গ্রেপ্তার করার আগে অভিযুক্তকে থানায় হাজির হওয়ার জন্য নোটিস পাঠানো বাধ্যতামূলক। সেই প্রক্রিয়া মানা হয়নি। 

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ময়ূরেশ্বরের ষাটপলশা গ্রামের মোড়ে বিজেপি কর্মী শিশির মণ্ডলের হার্ডওয়ারের দোকান, গোডাউন এবং বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। প্রচুর জিনিসপত্র লুটের অভিযোগ ওঠে জটিল ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। শিশিরবাবু বলেন, ওইদিন ফলাফল ঘোষণার পরই হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। তারপরও কয়েকবার হামলা হয়েছে। সেইসময় থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা হওয়ায় পুলিশ তা নেয়নি। শুধু তাই নয়, ওইদিন গুনু গ্রামের কয়েকজন বিজেপি কর্মীকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। আমরা জটিলের অনেক অত্যাচার সহ্য করেছি। রাজ্যে পালাবদল হওয়ায় বিচারের আশায় শুক্রবার দুপুরে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পেরেছি। পুলিশ পদক্ষেপ নিয়েছে। 
এলাকার বাসিন্দা তথা বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, জটিল সিপিএমে থাকাকালীন মানুষের উপর অত্যাচার করেছে। তৃণমূল জমানাতেও পুলিশকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে অত্যাচার চালিয়ে এসেছে। ত্রাস সৃষ্টি করে পঞ্চায়েত ভোটে বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছে। রাজ্যে পালাবদল হতেই মানুষ সাহস করে অভিযোগ করেছে। পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ জমা পড়বে। আগে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও বর্তমানে সহ সভাপতির পদে থেকে ফুলেফেঁপে উঠেছেন। এসবেরও তদন্ত হবে। ওই নেতার গ্রেপ্তারে এলাকার মানুষ খুব খুশি। এব্যাপারে তৃণমূল নেতা তথা ময়ূরেশ্বর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ধীরেন্দ্রমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আইনের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। আইন আইনের পথে চলবে। এদিন আদালত থেকে জেলে নিয়ে যাওয়ার পথে জটিল শুধু বলেন, আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ