সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এখন অতীত। দলের স্বার্থে ব্যক্তিগত সংঘাত সরিয়ে রেখে সামশেরগঞ্জের দলীয় প্রার্থী নুর আলমকে জেতাতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছেন বিদায়ী বিধায়ক আমিরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং তাঁর কড়া বিরোধী হিসেবে পরিচিত জেলা পরিষদ সদস্য আনারুল হক বিপ্লব। গত রবিবার সামশেরগঞ্জের কৃষকবাজারের সভা থেকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বড় দায়িত্ব তুলে দেন আমিরুল ইসলামের কাঁধে। তাঁকে সামশেরগঞ্জ ও ফরাক্কা এই দুই বিধানসভা কেন্দ্র দেখার কড়া নির্দেশ দেন নেত্রী। দলনেত্রীর সেই বার্তার পরেই ছবিটা দ্রুত বদলে যায়। দীর্ঘদিনের সাপে-নেউলে সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে দলের প্রার্থীর জয়ের লক্ষ্যে এক সারিতে এসে দাঁড়িয়েছেন যুযুধান দুই শিবিরের নেতারা।
বিধায়ক ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বর্তমান ব্লক সভাপতি জাকির হোসেন ও প্রাক্তন ব্লক সভাপতি শহিদুল ইসলাম এখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন আনারুল হক বিপ্লবের সঙ্গে। এই ঐক্যের ছবি কর্মীদের মধ্যেও উদ্দীপনা তৈরি করেছে। সামশেরগঞ্জের প্রতিটি গ্রাম ও বুথ স্তরে নুর আলমের সমর্থনে জোরকদমে প্রচার শুরু করেছেন অনুগামীরা। এদিন সামশেরগঞ্জে দোগাছি নপাড়াতে নির্বাচনি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই মঞ্চে হাজির হন উভয় পক্ষ। একে অপরকে মালা দিয়ে বরণ করে নেন। সেই দৃশ্য দেখে উৎফুল্ল দলের কর্মী সমর্থকরা হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানান। আনারুল হক বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী নুর আলমকে জয়ী করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। আমরা ঔক্যবদ্ধ ছিলাম ও থাকব। নূর আলম সাহেব সামশেরগঞ্জে রেকর্ড ভোটে জয়ী হয়ে জেলায় একনম্বর হবেন। ব্লক সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, আমরা সকলে মিলেই প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীকে জয়ী করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করা।
অপরদিকে এদিন, ফরাক্কার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী আমিরুল ইসলাম নির্বাচনি জনসভায় কংগ্রেসের প্রার্থী মাহাতাব শেখকে বিজেপির লোক বলে কটাক্ষ করেন। বিজেপির সঙ্গে আঁতাত করেই প্রার্থীর ডিলিট ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন। ফরাক্কা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি আব্দুল বাসির বলেন, সামশেরগঞ্জের মানুষ আমিরুল ইসলামকে যোগ্য জবাব দিত। সেই ভয়েই দল তাকে ফরাক্কায় পাঠিয়েছে। আমিরুল সাহেব মুখরোচক কথা বলে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেসের হাত ধরেই বাংলায় বিজেপির উত্থান। প্রার্থী নুর আলম বলেন, আমরা সকলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক, আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ হলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত আরও শক্তিশালী হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কড়া অবস্থান এবং সরাসরি হস্তক্ষেপের ফলেই ব্লক স্তরের এই মেরুকরণ সম্ভব হয়েছে। এখন দেখার, নেতাদের এই হাত মেলানো ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।