Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তোলাবাজি-বেআইনি নির্মাণে অভিযুক্ত, তৃণমূলের কর্মাধ্যক্ষ গ্রেপ্তার ডোমজুড়ে

তোলাবাজি, বেআইনি জমি দখল, জলাশয় ভরাট এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীদের মারধর করে এলাকাছাড়া করার মতো একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তৃণমূল পরিচালিত ডোমজুড় পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ জয়দীপ বর্মনকে।

তোলাবাজি-বেআইনি নির্মাণে অভিযুক্ত, তৃণমূলের কর্মাধ্যক্ষ গ্রেপ্তার ডোমজুড়ে
  • ২৮ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: তোলাবাজি, বেআইনি জমি দখল, জলাশয় ভরাট এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীদের মারধর করে এলাকাছাড়া করার মতো একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তৃণমূল পরিচালিত ডোমজুড় পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ জয়দীপ বর্মনকে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ডোমজুড় থানার পুলিশ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার ধৃতকে হাওড়া আদালতে তোলা হলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই দক্ষিণ ঝাঁপড়দহ পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য স্বাতী সেনেটি জয়দীপ বর্মনের বিরুদ্ধে ডোমজুড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, এলাকার বিভিন্ন পুকুর ও ডোবা বুজিয়ে বেআইনি নির্মাণে মদত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয় দেখিয়ে তোলাবাজি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দাপট দেখানো এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এদিন শারীরিক পরীক্ষার জন্য ধৃতকে ডোমজুড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে উপস্থিত বহু মানুষ ক্ষোভ উগড়ে দেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই জয়দীপ ‘দাদাগিরি’ চালাচ্ছিলেন। তাঁর ভয়ে মানুষ মুখ খুলতে পারতেন না। জয়দীপকে গ্রেপ্তারের পর বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরও সরব হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বিজেপি কর্মী জয়দীপ ঘটক অভিযোগ করেন, ‘বিজেপি করি বলে গত লোকসভা নির্বাচনের সময় আমাকে ঘরছাড়া করা হয়েছিল। আমার কাছে ৩০ হাজার টাকা চেয়েছিল ওরা। সেই টাকা দিতে না পারায় মারধরও করা হয়েছিল।’ আরেক বিজেপি কর্মী অসীম ঘোড়ুইয়ের দাবি, ‘একের পর এক জলাশয় বুজিয়ে বেআইনি নির্মাণ হয়েছে। এতদিন রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ কিছু বলতে পারত না। এখন রাজ্যে পরিবর্তনের পর আইনের শাসন ফিরেছে বলেই এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। জগৎবল্লভপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপম ঘোষ বলেন, ‘আগে শাসকের আইন চলত, এখন আইন নিজের পথে চলছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শাসকদলের সদস্যরা এখন অভিযোগ জানাতে সাহস পাচ্ছেন। যারা এলাকায় আতঙ্ক ও সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ যদিও ডোমজুড় পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি সৌরভ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের পঞ্চায়েত সমিতি তিনটি বিধানসভা এলাকায় বিস্তৃত। ঘটনাটি জগৎবল্লভপুর এলাকার মধ্যে পড়ে। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ