


সংবাদদাতা, কান্দি: প্রায় ৮০বছর পর গ্রামে ঢোকার একমাত্র রাস্তা তৈরি শুরু হয়েছে। তবু ভোটবাক্সে তার লাভ ঘরে তুলতে পারল না তৃণমূল কংগ্রেস। খড়গ্রাম ব্লকের সুজাপুর গ্রামে ৩৫৯টি ভোট পড়লেও সেখানে বিজেপি প্রার্থী ১০০’র বেশি ভোটে লিড পেয়েছেন। এতে হতাশ তৃণমূলের পরাজিত প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক আশিস মার্জিত।
সুজাপুর গ্রাম বালিয়া পঞ্চায়েতে পড়ে। ভোটারসংখ্যা ৪৬৯। তার মধ্যে এবছর ৩৫৯টি ভোট পড়েছে। এই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই কৃষিকাজ করেন। এলাকার মানুষকে প্রধান সড়কে উঠতে এতদিন প্রায় তিন কিমি মাটির রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হত। বর্ষায় চরম ভোগান্তির শিকার হতেন তাঁরা। প্রায় ৮০বছর ধরে এই দুরবস্থা চলে এলেও পাকা রাস্তা হচ্ছিল না। কয়েকমাস আগে গ্রামের রাস্তার জন্য ২কোটি ৩৫লক্ষ ৭৫হাজার ২৪৮ টাকা বরাদ্দ হয়। ভোটের ১৫দিন আগে কাজও শুরু হয়।
তৃণমূল প্রার্থীর আশা ছিল, রাস্তা হওয়ার কারণেই এই গ্রামে তিনি লিড পাবেন। কিন্তু ফলপ্রকাশ হলে দেখা যায়, এই গ্রাম থেকে বিজেপি প্রার্থী ১০৩ভোটে লিড পেয়েছেন। পদ্মের প্রার্থী এখানে ২২৮টি ভোট পেয়েছেন। সেখানে তৃণমূল প্রার্থীর ঝুলিতে পড়েছে ১২৫টি ভোট। বাকি ভোট অন্য প্রার্থীরা পেয়েছেন।
আশিসবাবু বলেন, আমাদের সরকার ৮০বছর পর গ্রামের প্রধান সমস্যার সমাধান করল। প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা তৈরি করা হলেও ভোটে প্রভাব পড়ল না। আমি হতাশ। গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য ফাল্গুনি রাজবংশী বলেন, গণনার আগের দিন পর্যন্ত বুঝতে পারিনি, মানুষের মনের ভিতর কী ছিল। আড়াই কোটির রাস্তাতেও মানুষের মন জয় করতে পারিনি।
বিজেপির জয়ী প্রার্থী মিতালী মালের স্বামী তথা খড়গ্রামের বিজেপির ৩নম্বর মণ্ডল কমিটির সভাপতি মিঠুন ঘোষ বলেন, আসলে এবার পরিবর্তনের ভোট হয়েছে। মানুষ তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করতে চাইছিলেন। তৃণমূল সরকারের প্রতি বিতৃষ্ণা থেকেই ওই গ্রামে আমাদের লিড এসেছে।
খড়গ্রাম ব্লকের সুজাপুর গ্রাম ঢোকার রাস্তা তৈরি হচ্ছে।