সংবাদদাতা, বনগাঁ: তৃণমূলের উপপ্রধান ও প্রাক্তন প্রধানসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করল গোপালনগর থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম আলিম তরফদার, হায়দার মোল্লা, নূরউদ্দিন মণ্ডল ওরফে কালু, জসিমউদ্দিন মণ্ডল, রবি দাস ও রুহুল মণ্ডল। পুলিশের দাবি, ধৃতরা প্রত্যেকে একটি ডাকাত দলের সদস্য। ধৃত আলিম বনগাঁর গঙ্গানন্দপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। হায়দার মোল্লা বৈরামপুর পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান ও তৃণমূলের সদস্য। ধৃতদের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক রাউন্ড গুলি, শাবল, লোহার রড উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ধৃতদের বনগাঁ আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের পাঁচ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেয়। এদিন ধৃতদের আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় বিজেপি সমর্থক ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ দেখায়। ধৃতদের লক্ষ্য করে ডিম, কাদা, এমনকি ইটও ছোড়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে স্থানীয় সারদাপল্লি এলাকায় জড়ো হয় কয়েকজন দুষ্কৃতী। খবর পেয়ে পুলিশ সেখান থেকে আলিম সহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। তল্লাশিতে আলিমের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়। পুলিশের দাবি, ডাকাতির জন্য জড়ো হয়েছিলেন ধৃতরা। তাঁদের জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, এই পরিকল্পনার অন্যতম মাথা হায়দার মোল্লা। শনিবার সকালে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হায়দার বর্তমান পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী। এলাকায় দাদাগিরির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সরকারি ত্রাণ আত্মসাৎ থেকে বিনা দোষে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে জেল খাটানোর মতো একাধিক অভিযোগও রয়েছে। এদিন তাঁর গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই থানায় ভিড় জমান ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। ডিম নিয়ে থানা চত্বরে হাজির হয় বিক্ষুব্ধরা। পুলিশের গাড়িতে ধৃতদের আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। বিজেপি জেলা তফসিলি মোর্চার সভাপতি শোভন বৈদ্য বলেন, ‘ধৃতরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকাবাসীর উপর অকথ্য অত্যাচার করেছে। তাই ওরা গ্রেপ্তার হতেই মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।’
অন্যদিকে, আবাস যোজনার ঘরের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাগদার বয়রা পঞ্চায়েতের উপপ্রধানকে গ্রেপ্তার করলো বাগদা থানার পুলিশ। ধৃতের নাম অসিত মণ্ডল। শুক্রবার রাতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের বিরুদ্ধে সরকারি আবাস যোজনায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে উপভোক্তাদের কাছ থেকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিজেপির রাজ্য সম্পাদিকা বিভা মজুমদার বলেন, ‘অসিত মণ্ডল মানুষকে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেছেন। একাধিক দুর্নীতিতে যুক্ত তিনি।’