Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পার্কিং নিয়ে বেনিয়মের অভিযোগ, প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল কাউন্সিলারই

শহরে বেআইনি পার্কিং নিয়ে অভিযোগ নতুন কিছু নয়। তবে পার্কিংয়ের বেনিয়ম নিয়ে এবার প্রশ্ন তুললেন শাসকদলেরই এক কাউন্সিলার। এর আগে অভিযোগ উঠেছে যে, কয়েকটি কো-অপারেটিভ সোসাইটির হাতেই ঘুরছে অধিকাংশ পার্কিং লটের বরাত।

পার্কিং নিয়ে বেনিয়মের অভিযোগ, প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল কাউন্সিলারই
  • ৪ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরে বেআইনি পার্কিং নিয়ে অভিযোগ নতুন কিছু নয়। তবে পার্কিংয়ের বেনিয়ম নিয়ে এবার প্রশ্ন তুললেন শাসকদলেরই এক কাউন্সিলার। এর আগে অভিযোগ উঠেছে যে, কয়েকটি কো-অপারেটিভ সোসাইটির হাতেই ঘুরছে অধিকাংশ পার্কিং লটের বরাত। ফলে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যরা। ভবিষ্যতে এজন্য পার্কিং নিয়ে আরও বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গিরিশ পার্ক-পোস্তা অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলার রাজেশকুমার সিনহা।

Advertisement

শহরজুড়ে পার্কিং নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ প্রচুর। বেআইনি পার্কিং লট, আইনি লটেও নির্ধারিত ফি-র চেয়ে বেশি টাকা আদায়, রশিদ না দেওয়া এবং স্বচ্ছতার অভাব-এমন অভিযোগ হামেশাই ওঠে। সম্প্রতি পুরসভার মাসিক অধিবেশনে সেই একই প্রশ্ন তুললেন শাসকদলেরই এক কাউন্সিলার। রাজেশের বক্তব্য, কলকাতা পুরসভার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পার্কিং ব্যবস্থায় স্থানীয় যুবকদের তৈরি করা কো-অপারেটিভ সোসাইটি বা ইউনিয়নকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান তৈরির জন্যই এমন নিয়ম। তবে এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মানা উচিত। কারণ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, হাতেগোনা কয়েকটি কো-অপারেটিভ সোসাইটি শহরের অধিকাংশ পার্কিং লটের দায়িত্ব পাচ্ছে। এর ফলে তারা আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে। আর অন্য বহু সোসাইটি দিনের পর দিন বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে। কাউন্সিলারের দাবি, এই অসম বণ্টনের ফলে শহরের পার্কিং ব্যবস্থায় অস্বচ্ছতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। পার্কিং লট বরাদ্দ এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতি থাকলে তা আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা দরকার।
যদিও পুরসভা সূত্রে জানানো হয়েছে, টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পার্কিং লট বরাদ্দ করা হয় এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনেই ফি আদায় হয়। এই প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার পার্কিং বিভাগের মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার বলেন, পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের নির্দিষ্ট নীতি রয়েছে। সেই অনুযায়ী বরাত দেওয়া ও ফি নির্ধারণ করা হয়। তবে কো-অপারেটিভ সোসাইটিগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো আইন আমাদের হাতে নেই। আরও বেশি সোসাইটি এগিয়ে আসুক, আমরা সেটাই চাই। কিন্তু টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুযায়ীই কাজ করতে হবে। এর মধ্যেই কোথাও কোন বেনিয়মের নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে এবং তা আমাদের কাছে এলে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।
প্রশ্ন উঠেছে, নিয়মের ফাঁকফোকর থেকেই কি তৈরি হচ্ছে এই একচেটিয়া আধিপত্য? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পার্কিং ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও সুসংগঠিত করা জরুরি। এমন বেনিয়মের অভিযোগ যাতে না ওঠে, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ