নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন কলকাতা পুরসভার ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার বিশ্বজিৎ মণ্ডল। রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান সোমা দাস মিত্র এই খবর জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকার অভিযোগে নারকেলডাঙা থানার হাতে ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলার শচীন সিংয়ের বিরুদ্ধে এবার তোলাবাজি এবং অস্ত্র আইনে নতুন একটি মামলা দায়ের হয়েছে নারকেলডাঙা থানায়।
লালবাজারের এক সূত্র জানাচ্ছে, নারকেলডাঙা মেন রোডের বাসিন্দা গোপীকুমার সাউয়ের অভিযোগ, তৃণমূল কাউন্সিলার শচীন সিং ও তাঁর সঙ্গীরা রাস্তায় বেআইনি পার্কিং, হকার বসিয়ে তোলাবাজি চালাত শিয়ালদহ এলাকায়। পাশাপাশি, ২০২১ সালে ৩ মে ভোটের ফল প্রকাশের পর গোপীকুমার সাউয়ের মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে খুনের হুমকি দিয়েছিল।
অন্যদিকে, পূর্ব পুটিয়ারির এক মহিলা ১ জুন রিজেন্ট পার্ক থানায় তৃণমূল কাউন্সিলার বিশ্বজিৎ মণ্ডলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যার ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ ওই কাউন্সিলারকে গ্রেপ্তার করেছে। লিখিত অভিযোগে মহিলা জানিয়েছেন, ‘চলতি বছরের ৯ মে রাত ৮টা নাগাদ পূর্ব পুটিয়ারির গঙ্গাপুরী স্কুলের কাছে তাঁকে প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে শ্লীলতাহানি, কটূক্তি, মারধর করেন অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলার।’
উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের পর প্রায় রোজই গ্রেপ্তার হচ্ছেন কলকাতা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার। এখন পর্যন্ত মোট ৫ জন তৃণমূল কাউন্সিলার গ্রেপ্তার হয়েছেন। প্রথমে ঠাকুরপুকুর থানার হাতে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন সুদীপ পোল্লে। তারপর ভোট পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকার অভিযোগে নারকেলডাঙা থানার হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার শচীন সিং।
এরপরই গরফায় প্রোমোটারের থেকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার অরিজিৎ দাস ঠাকুর। বুধবার রাতে তোলাবাজির অভিযোগে বড়বাজার থানার হাতে গ্রেপ্তার হন কলকাতা পুরসভার ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার মহেশকুমার শর্মা। এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন রিজেন্ট পার্ক থানার হাতে ধৃত ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার বিশ্বজিৎ মণ্ডল।