নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: শাসক দলের মুখ বদল নিয়ে প্রায় সব জেলাতেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা ধরে ধরে ক্লাস নিচ্ছেন। তাঁর টিম মাঠে-ময়দানে নেতাদের কর্মকাণ্ডের তথ্য নিচ্ছে। এই অবস্থায় দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা-কর্মীদের গুরুত্ব কমিয়ে, সেই জায়গায় শিক্ষিত মহিলা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের তুলে আনার চেষ্টা শুরু হয়েছে। তার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বিভিন্ন ব্লকে ঘটা করে শিক্ষক দিবস আয়োজন করে শিক্ষকদের সম্মান জানানো হচ্ছে। সেখানে ডাকা হচ্ছে পুরনো শিক্ষক ও এলাকার জনপ্রিয় গৃহশিক্ষকদেরও। এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে সাতটি ব্লকে ঘটা করে এই অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে শিক্ষকদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি রাজ্য সরকার শিক্ষক ও পড়ুয়াদের জন্য কী কী করেছে, তা তুলে ধরা হয়। স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড, কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্পগুলি সমাজের সর্বস্তরে জানিয়ে শিক্ষকরাও যেন সচেতনতায় অংশ নেন, দলের পক্ষ থেকে সেই আর্জি করা হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্মান দিতে হবে। শিক্ষকরা তো আমাদের গুরুদেব। তাঁরা আগেও আমাদের পাশে থেকেছেন। এই ধরনের শিক্ষিত মানুষকে আরও বেশি করে দলে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শিক্ষক সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, বিধায়করাও উপস্থিত থাকছেন। তাঁদের হাত দিয়ে শিক্ষকদের সম্মানিত করা হচ্ছে। সেখানেই রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্প তুলে ধরা হচ্ছে। শিক্ষকদের কাছে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই শাসক দলের হয়ে কাজ করারও ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। সেই প্রস্তাব সাদরে গ্রহণ করেছে নেতৃত্ব। জানা গিয়েছে, অনেক জায়গায় সেই শিক্ষকদেরই সামনের সারিতে তুলে আনার ভাবনা-চিন্তা শুরু হয়েছে।পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতির দেবারতি সিনহা বলেন, আমাদের জেলার ১৫টি সার্কেলেই এই অনুষ্ঠান করা হবে। এখনও পর্যন্ত সাতটি সার্কেলে ১৬০০ জন বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে কয়েক দফায় সম্মানজ্ঞাপন করা হয়েছে। বহু প্রাক্তন শিক্ষক এলাকার নেতৃত্ব দেন। তাঁরা নানা সমস্যা প্রশাসনিক স্তরে তুলে ধরেন। তাঁদের পরামর্শ গ্রহণ করা হচ্ছে। অনেকক্ষেত্রে দল তাঁদের নিয়ে বিশেষ ভাবনা-চিন্তাও করছে।