Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দলবিরোধী পোস্ট করার ‘শাস্তি’, তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলারকে থানায় বিবস্ত্র করে বিদ্যুতের শক!

ডায়মন্ডহারবার পুরসভার একটি প্রকল্প নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দলবিরোধী তকমা জুটেছিল সাত নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার তমাল হালদারের।

দলবিরোধী পোস্ট করার ‘শাস্তি’, তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলারকে থানায় বিবস্ত্র করে বিদ্যুতের শক!
  • ১৪ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

 শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা:  ডায়মন্ডহারবার পুরসভার একটি প্রকল্প নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দলবিরোধী তকমা জুটেছিল সাত নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার তমাল হালদারের। এই অপবাদে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ডায়মন্ডহারবার তুলে নিয়ে গিয়ে পেশায় চিকিৎসক ওই কাউন্সিলারকে বিবস্ত্র করে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।  প্রাণের ভয়ে তখন পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে পারেননি। পালাবদলের পর পুরসভার সেই কাউন্সিলার এবার খোদ ডিজিকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। তারপরই পুলিশ তৎপর হয়ে উঠেছে। অভিযোগকারীর বয়ান রেকর্ড করার জন্য ডেকে পাঠিয়েছে ডায়মন্ডহারবার থানা।

Advertisement

রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর, ডাঃ তমাল হালদার লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, ডায়মন্ডহারবার পুরসভার একটি প্রজেক্ট নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। ওই প্রজেক্টটি কীভাবে ছাড়পত্র পেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। তমালবাবুর অভিযোগ, এরপরই তাঁকে রীতিমতো হেনস্থার মুখে পড়তে হয়। ২০২৩ সালের ১০ ফেব্রুয়রি  ডায়মন্ডহারবার পুরসভায় যান একশো থেকে দেড়শো জন পুলিশ কর্মী। যার নেতৃত্বে ছিলেন ওই জেলার তদানীন্তন এক নামজাদা অফিসার।  তাঁকে পুরসভা থেকে থানায় তুলে আনা হয়। সেখানে হাজির ছিলেন থানার তদানীন্তন আইসি সহ রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। থানায় তাঁর উপর অকথ্য শারীরিক নির্যাতন চলে। বিবস্ত্র করার পর ইলেকট্রিক শক দেন পুলিশ কর্মীরা। পেট, বুক ও যৌনাঙ্গে বারবার আঘাত করা হয়। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই অত্যাচারের কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, তিনি দলবিরোধী কাজ করেছেন। সেই সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও মাকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ দেওয়া হয়। পুরো বিষয়টি ভিডিওগ্রাফি করেন সেখানে উপস্থিত এক পুলিশ কর্মী। পুলিশের তরফে হুমকি দেওয়া হয়, বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে  মাদক মামলায় তাঁকে তিন মাসের জেল খাটানো হবে। এমনকী অফিসাররা হুমকি দেন, তাঁরা ট্রান্সফার হয়ে গেলেও আবার ফিরে আসবেন। তাঁকে খুনের হুমকিও দেওয়া হয় বলে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন ডাঃ হালদার। ভয়ে তিনি ওই পোস্ট প্রত্যাহার করে নেন। এমনকী ক্ষমাও চেয়ে নেন। ওই কাউন্সিলার অভিযোগপত্রে লিখেছেন, সেই সময় প্রাণভয়ে কোথাও অভিযোগ করতে পারেননি। ক্ষমতার পরিবর্তন হতেই তিনি বিষয়টি জানিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি সহ পুলিশ ডিরেক্টরেটের শীর্ষ কর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাঁর অভিযোগ পেয়েই তৎপর হয়েছেন কর্তারা। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার জন্য ডায়মন্ডবারহারবার পুলিশ জেলায় নির্দেশ যায়। তারপরই ওই ডাক্তারের বক্তব্য রেকর্ড করতে চেয়ে ডায়মন্ডহারবার থানার তরফে ফোনও করা হয়েছে। তার ভিত্তিতে এফআইআর রুজুর প্রক্রিয়া চলছে বলে খবর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ